সারাবিশ্ব

হুতিরা ফোন করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই চায় না: ট্রাম্প


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

হুতিরা ফোন করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই চায় না: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যেতে চায় না বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, হুতিরা ফোন করে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

শনিবার আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও যেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেয়, সেটি জানানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তবে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইনে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। হামলার সঙ্গে ইরান জড়িত থাকতে পারে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তার ধারণা, সম্ভবত ইরানই এর পেছনে রয়েছে।

হামলার পর সৌদি আরবের পূর্ব থেকে পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এ ঘটনায় সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলার কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। সৌদি যুবরাজকে নিজের ভালো বন্ধু বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলাটি ইরান থেকে নয়, ইরাক থেকে ছোড়া কয়েকটি চালকবিহীন বিমানের মাধ্যমে হয়েছে। হামলায় কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেবে না। হামলার ঘটনায় ইরাক সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইরাক সরকারও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তদন্তে হামলাটি ইরাকের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর একজন সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্ত করার কথা জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

এদিকে ইয়েমেনে গত সপ্তাহজুড়ে অভিযান চালানোর পর লোহিত সাগরের উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে হুতিরা। এর আগে তিনটি কৌশলগত দ্বীপও দখলে নেয় তারা। এতে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

হুতিদের অগ্রযাত্রায় সৌদি আরবের তেল পরিবহন নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগরের পথ ব্যবহার করতে চায় সৌদি আরব। কিন্তু ওই অঞ্চলে হুতিদের তৎপরতা এই পথকেও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

অন্যদিকে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কৌশলগত বন্দরনগরী মোখায় হামলা চালিয়েছে। সরকারি বাহিনীর দাবি, হামলায় হুতিদের কয়েকটি যান ও অস্ত্র ধ্বংসের পাশাপাশি কয়েকজন হুতি সদস্য নিহত হয়েছেন।

হুতিদের সাম্প্রতিক অভিযানে ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষের সূত্র জানিয়েছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। দীর্ঘদিনের এই সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগর ও বাব আল মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এরই মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।

২০২৩ সালের শেষ দিকে লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা শুরুর পর বাব আল মান্দেব দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়ে বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে হুতিরা।

হুতিদের দাবি, ইয়েমেনে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর ওপর সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অবরোধের জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।