ক্যাম্পাস

ডাকসুর অনার বোর্ডে নেই গোলাম রাব্বানী-রাশেদের নাম


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

ডাকসুর অনার বোর্ডে নেই গোলাম রাব্বানী-রাশেদের নাম
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালার সংস্কার কাজ শেষে নতুনভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। সংস্কার করা সংগ্রহশালায় ডাকসুর সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দের নাম সংবলিত নতুন অনার বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। তবে ওই অনার বোর্ডে ২০১৯-২০ সেশনের ঘোষিত বিজয়ী সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী এবং সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে জিএস হিসেবে ঘোষিত মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনের নাম রাখা হয়নি।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালার সংস্কার কাজ শেষে এর উদ্বোধন করেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ডাকসুর বিভিন্ন সময়ের কার্যক্রম, আন্দোলন-সংগ্রাম ও ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সংগ্রহশালাটি সংস্কার করা হয়েছে।

সংস্কারের অংশ হিসেবে সংগ্রহশালায় নতুন একটি অনার বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এতে ১৯২৪-২৫ সেশন থেকে শুরু করে বর্তমান ২০২৫-২৬ সেশন পর্যন্ত ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের কারণে ওই সময়ের জিএস পদে থাকা দুই ব্যক্তির নাম অনার বোর্ডে রাখা হয়নি।

নতুন অনার বোর্ডে দেখা যায়, ২০১৯-২০ সেশনের নির্বাচনে ঘোষিত বিজয়ী সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর নাম নেই। একইভাবে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে ২০১৯ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনের নামও সেখানে যুক্ত করা হয়নি।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানীকে। পরবর্তী সময়ে তার ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ায় ডাকসুর জিএস পদ নিয়েও নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৩১ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় গোলাম রাব্বানীর ডাকসুর পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ২০১৯ সালের নির্বাচনে জিএস পদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া মো. রাশেদ খাঁনকে ওই পদে ঘোষণা করে সিন্ডিকেট।

তবে সিন্ডিকেটের ওই সিদ্ধান্তের পরও নতুন করে স্থাপিত অনার বোর্ডে গোলাম রাব্বানী কিংবা রাশেদ খাঁনের নাম যুক্ত করা হয়নি।

এ বিষয়ে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “আমাদের কারও নাম লিখতে কোনো সমস্যা নেই। আগের সকলের নামই লেখা হয়েছে। তবে যেহেতু এটি একটি বিতর্কিত বিষয়, তাই বিষয়টি আপাতত বাদ রাখা হয়েছে। যখন এ বিষয়ে সুরাহা হবে, তখন অবশ্যই নাম যুক্ত করা হবে।”

এর আগে ডাকসু সংগ্রহশালার নতুন রূপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের ইতিহাসের সঙ্গে ডাকসুর ইতিহাস গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, এসব আন্দোলন-সংগ্রাম ও কর্মকাণ্ডের অনেক স্মৃতি, দলিল ও ঐতিহাসিক নিদর্শন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য ডাকসুর সংগ্রহশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সংগ্রহশালাটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল।

ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর সংগ্রহশালাটিকে আরও আধুনিক ও সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করি। সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে আজ এটি নতুনভাবে উদ্বোধন করা হলো।”

তিনি আরও বলেন, সংগ্রহশালায় আগামী এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দলিল ও নিদর্শন সংযোজনের কাজ চলবে। সেখানে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস নয়, বরং দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ও স্থান পেয়েছে।

ভবিষ্যতে সময়ের সঙ্গে সংগ্রহশালায় আরও নতুন নতুন ঐতিহাসিক উপকরণ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ জন্য ডাকসুর সাবেক নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে থাকা পুরোনো ছবি, নথি, প্রকাশনা, পোস্টার, স্মারক ও অন্যান্য ঐতিহাসিক উপকরণ সংগ্রহ করা হবে।

এসব উপকরণ পর্যায়ক্রমে সংগ্রহশালায় সংরক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে ডাকসু সংগ্রহশালাকে একটি সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক আর্কাইভে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তবে নতুন অনার বোর্ডে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের জিএস পদ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের কারণে গোলাম রাব্বানী ও রাশেদ খাঁনের নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিতর্কিত বিষয়টির সুরাহা হলে ভবিষ্যতে অনার বোর্ডে প্রয়োজনীয় সংযোজন করা হবে।