সারাবিশ্ব

চুক্তি হলেই সাত দিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫ এএম

চুক্তি হলেই সাত দিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে চুক্তি স্বাক্ষরের এক সপ্তাহের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান আরাঘচি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় শর্তগুলো মেনে নিলে প্রস্তাবিত চুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নতুন প্রস্তাবে থাকা শর্তগুলো নতুন নয়। গত জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইরানের প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুও রয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিও বন্ধ করে দেয় তেহরান।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও দামে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়।

আরাঘচি বলেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া সম্ভব। চুক্তি স্বাক্ষরের সাত দিনের মধ্যে সেখানে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচলও শুরু হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটি এখন তাদের ওপর নির্ভর করছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠিক কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা স্পষ্ট করেননি আরাঘচি। তিনি জানান, ইরানের দেওয়া শর্তগুলো গত জুনের ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই উল্লেখ রয়েছে।

গত ১৮ জুনের ১৪ দফা সমঝোতায় ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়টি ছিল। পাশাপাশি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কথাও বলা হয়েছিল।

এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল ইরানের। ভবিষ্যতে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিও সমঝোতায় ছিল।

তবে দুই পক্ষের মধ্যে আবার হামলা ও পাল্টা হামলা শুরু হলে কয়েক দিনের মধ্যেই ওই সমঝোতা ভেস্তে যায়।

এরপর হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায় ইরান। তেহরানের দাবি, অনুমোদনবিহীন পথ ব্যবহার করে চলাচল করায় এসব জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

পরে হরমুজের আশপাশে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং কঠোর নৌ অবরোধ আরোপ করে। এতে ইরানের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।

সূত্র: বিবিসি