সারাবিশ্ব

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের নতুন ঘোষণার পর মার্কিন শেয়ারবাজারে ধস


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৫, ১২:১৩ পিএম

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের নতুন ঘোষণার পর মার্কিন শেয়ারবাজারে ধস
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি করে হঠাৎই শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (স্থানীয় সময়) দুপুরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একগুচ্ছ ‘শুল্ক চিঠি’ প্রকাশ করে তিনি জানান, আগামী ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে।

ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধস নামে। ডাও জোন্স সূচক পড়ে যায় ৪২২ পয়েন্ট, নাসডাক সূচক কমে ০.৯ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমে ০.৮ শতাংশ।

বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। জাপানের টয়োটা, নিসান ও হোন্ডা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার এলজি ও এসকে টেলিকমের মতো বৃহৎ কোম্পানির শেয়ারের দাম তাৎক্ষণিকভাবে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ কৌশলবিদ রস মেফিল্ড সিএনএন-কে বলেন, “প্রস্তাবিত শুল্কের হার বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ছিল, তাই তারা ব্যাপকহারে শেয়ার বিক্রি শুরু করেন।”

এছাড়া, মার্কিন সরকারি বন্ডের বাজারেও শুল্ক ঘোষণার প্রভাব পড়ে। ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বেড়ে দাঁড়ায় ৪.৩৯ শতাংশ এবং ৩০ বছর মেয়াদে তা বেড়ে হয় ৪.৯২ শতাংশ।

ট্রাম্প চিঠিতে আরও হুঁশিয়ারি দেন, ব্রিকস (BRICS) জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। তার অভিযোগ, এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নীতি অনুসরণ করছে এবং তার শুল্কনীতির ‘অযৌক্তিক’ সমালোচনা করছে।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইউএস ডলার ইনডেক্স বেড়েছে ০.৩ শতাংশ। এর ফলে জাপানি ইয়েন, দক্ষিণ কোরীয় ওয়ান এবং দক্ষিণ আফ্রিকান র‍্যান্ডসহ একাধিক মুদ্রা ডলারের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়ে।

তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে এশিয়ার কিছু বাজারে সাময়িক ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও কিছুটা পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এ শুল্কনীতি শুধু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।