সারাবিশ্ব

ভাষা আন্দোলনের ডাক দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৫, ০১:৩৮ পিএম

ভাষা আন্দোলনের ডাক দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি।  ছবি: সংগৃহীত

বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর ওপর বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে নির্যাতন ও হয়রানির প্রতিবাদে নতুন করে ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। 

সোমবার (২১ জুলাই) কলকাতার ধর্মতলায় শহিদ দিবসের সমাবেশ থেকে তিনি এই ঘোষণা দেন।

মমতা ব্যানার্জি জানান, “২৭ জুলাই থেকে সর্বভারতীয় ভাষা আন্দোলন শুরু হবে। বাংলা ভাষাভাষীসহ সকল ভাষার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে মিছিল-মিটিং হবে। এই আন্দোলন চলবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগপর্যন্ত।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলাভাষীদের সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে। এদের কেউ রাজস্থান, ওড়িশা, উত্তর প্রদেশ বা ছত্তিশগড়ের কারাগারে রয়েছে, আবার অনেককে বাংলাদেশেও ফেরত পাঠানো হয়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার সার্কুলার জারি করে বাংলাভাষী ভারতীয়দের জেলে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, “বাংলা ভাষার উপর যদি অপমান, সন্ত্রাস বা অত্যাচার হয়, তবে আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জবাব দেব। বাংলা ভাষা শুধু পশ্চিমবঙ্গের না, এটা এশিয়াতে দ্বিতীয় বৃহত্তম ও বিশ্বে পঞ্চম। এমন ভাষার উপর আঘাত সহ্য করা হবে না।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বাংলা ভাষায় কথা বললেই কি কাউকে গ্রেফতার করা হবে? আমরা কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে দেব না। বিজেপি নির্ধারণ করবে কে কী খাবে, কে কোন ভাষায় কথা বলবে?”

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নাম উল্লেখ করে মমতা বলেন, “তিনি আসামে বাংলাভাষীদের বিরুদ্ধে কথা বলেন, আবার বাংলায় নাক গলান। এভাবে চললে আমরা দিল্লি পর্যন্ত আন্দোলন নিয়ে যাব।”

তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “বাংলা ভাষার ওপর আঘাত হলে, আমরা আন্দোলন গড়ে তুলব। দেখি কতগুলো ডিটেনশন ক্যাম্পে আমাদের রাখা যায়!”

মমতা আরও বলেন, “আজ শহিদ মঞ্চ থেকে আমি দিল্লি উৎখাতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম। বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানো না পর্যন্ত আমরা এই লড়াই থামাব না।”

আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “আমাদের এবার আরও বেশি আসনে জিততে হবে। সেই জয় হবে দিল্লি অভিযানের প্রথম ধাপ।” তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে বদলার রাজনীতি, ধর্মীয় বিভাজন এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রেরও অভিযোগ আনেন।

তিনি বলেন, “বিহারে ৪০ লাখ ভোটার বাদ পড়েছে, এবার বাংলার তালিকাতেও কাঁটছাঁট করার চেষ্টা চলছে। আমরা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করব। বাংলার ভোটার তালিকায় কারচুপি হলে দিল্লিতেও আন্দোলন হবে।”

২১ জুলাই শহিদ দিবসের এই বার্ষিক সমাবেশে প্রতিবছরই রাজনীতির দিক নির্দেশনা দেন মমতা ব্যানার্জি। তবে এবারের বার্তা ছিল তুলনামূলক বেশি তীক্ষ্ণ ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি হুঁশিয়ারিমূলক। ভাষা, নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার ইস্যুকে সামনে রেখে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন ও পরবর্তী জাতীয় রাজনীতির রূপরেখা এদিনই তুলে ধরলেন মমতা।

সূত্র: নিউজ১৮ বাংলা, টিভি৯ বাংলা, আনন্দবাজার পত্রিকা।