সারাবিশ্ব

ব্রাজিলে পুলিশের অভিযানে অন্তত ৬০ জন নিহত


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫, ০১:৩৬ পিএম

ব্রাজিলে পুলিশের অভিযানে অন্তত ৬০ জন নিহত
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে পুলিশের ব্যাপক অভিযানে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন। অভিযানে অংশ নেওয়া চার পুলিশ সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার (২৯ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মাদকচক্র ও সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় আড়াই হাজার পুলিশ অংশ নেয়। তাদের সহায়তায় হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান এবং বিশেষ বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন।

অভিযানটি মূলত শহরের নিম্ন–আয়ের দুটি এলাকা—কমপ্লেক্সো দো আলেমাও ও পেনহা ফাভেলাতে পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় গোলাগুলি শুরু হলে বহু মানুষ হতাহত হন।

রিও ডি জেনিরোর গভর্নর ক্লডিও কাস্ত্রো সাংবাদিকদের বলেন, “এই অভিযানের লক্ষ্য রিও ডি জেনিরো ও ব্রাজিলকে অপরাধমুক্ত করা। আমরা পিছু হটবো না, জননিরাপত্তাই আমাদের অগ্রাধিকার।”

তিনি জানান, এ অভিযানে ৮১ জনকে আটক করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ ধরনের বৃহৎ পুলিশি অভিযান সাধারণত বস্তি এলাকাগুলোকেই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে, যেখানে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বাস করে। নিহতদের মরদেহ দাফনের জন্য অনেক পরিবার এখনো মরচুয়ারিতে অপেক্ষা করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা দিয়েছে।

ব্রাজিলের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযানটি মূলত ‘রেড কমান্ডো’ নামের একটি শক্তিশালী মাদকচক্রকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়। রিওর বহু এলাকায় এই গোষ্ঠীর গভীর প্রভাব রয়েছে।

দেশজুড়ে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অপরাধী নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয়, যা সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই সহিংস ঘটনার সময়ই ব্রাজিলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন, তবে বিরোধী ডানপন্থী দলগুলো সরকারের নিরাপত্তা নীতির কড়া সমালোচনা করছে।

সরকার বলেছে, অপরাধী গোষ্ঠীগুলোকে এখনই ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে না—এই সিদ্ধান্ত নিয়েই নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

আগামী সপ্তাহে রিও ডি জেনিরোতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং নভেম্বরের শুরুতে আমাজনের বেলেম শহরে জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন–৩০ অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, পুলিশি এই অভিযান ও উচ্চসংখ্যক প্রাণহানি ঘটনাটি আসন্ন বৈশ্বিক ইভেন্টগুলোর আগেই দেশটির ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।