সারাবিশ্ব
নতুন করে ট্রাম্পের যুদ্ধের হুমকির পর ইরানের টেলিভিশন ও রাস্তায় অস্ত্রের মহড়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধ হুমকিকে ঘিরে ইরানে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির মধ্যে দেশটির রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি ও অস্ত্রের প্রদর্শন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও সামরিক প্রস্তুতির নানা চিত্র প্রচার করা হচ্ছে।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, সময় ফুরিয়ে আসছে, দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে দেশটি গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে পারে। তার এই মন্তব্য চলমান অস্থির কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এদিকে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশেষ করে আলবোর্জ পর্বতমালা সংলগ্ন অঞ্চল এবং তাজরিষ স্কয়ারের আশপাশে রাতের বেলায় বহু মানুষ সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সেখানে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ ধরনের স্লোগান শোনা যাচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, তারা দেশের স্বার্থে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।
সমাবেশে অংশ নেওয়া এক নারী বলেন, হুমকি-ধমকি সত্ত্বেও তারা দেশের পক্ষে অবস্থান নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে এক প্রবীণ অংশগ্রহণকারী দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি তাদের আত্মনির্ভরতার প্রতীক এবং এটি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
তবে এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের রাস্তায় ও কিছু গণমাধ্যমে সামরিক প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রচর্চার চিত্র দেখা যাচ্ছে। কয়েকটি এলাকায় অস্থায়ী প্রশিক্ষণ বুথ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে বেসামরিক মানুষকে প্রাথমিক অস্ত্র ব্যবহারের ধারণা দেওয়া হচ্ছে। নারী ও তরুণদেরও এসব কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখা গেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের কিছু লাইভ সম্প্রচারে উপস্থাপকদের সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার দৃশ্যও প্রচারিত হয়েছে, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে তেহরানের কিছু এলাকায় তুলনামূলক শান্ত পরিবেশও দেখা গেছে। পার্ক ও সাধারণ জনসমাগমস্থলে অনেককে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে দেখা যায়। সেখানে কিছু নাগরিক জানান, তারা সংঘাত নয় বরং স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ চান।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে দেশটির ভেতরে ভিন্নমত ও ভিন্ন চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—একদিকে প্রতিরোধ ও প্রস্তুতির বার্তা, অন্যদিকে শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনের প্রত্যাশা।
সূত্র: সিএনএন