সারাদেশ
চলতি বছরে সরাইল রিজিয়নে ৯৫৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন ১৩টি ব্যাটালিয়নের অভিযানে চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৯৫৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৩৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত অভিযান, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৮১৫ পিস ইয়াবা, ১৪ হাজার ৯৬৭ কেজি গাঁজা, ৬৩ হাজার ৫৭৫ বোতল বিদেশি মদ, ১৬ হাজার ৮৮০ বোতল বিয়ার এবং ফেনসিডিল ও ইস্কাফ সিরাপ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪ লাখ ৩২ হাজার ৫১০ পিস যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট এবং ২১০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়।
মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য জব্দের ক্ষেত্রেও অভিযান পরিচালনা করেছে বিজিবি। এসব অভিযানে ১১টি পিস্তল, সাতটি এয়ারগান, পাঁচটি পাইপগান ও ৬২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯ কেজি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৭৭ মিটার ডেটোনেটর তার জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে, সীমান্তবর্তী এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় পরিচালিত অভিযানে ১৬ হাজার ৮০০ ঘনফুট পাথর ও ৮ হাজার ২০০ ঘনফুট বালু জব্দ করেছে বিজিবি। চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ পণ্য পরিবহন বন্ধ এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে সরাইল রিজিয়নের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও তথ্য তুলে ধরা হয়। বিজিবি জানায়, এই রিজিয়নের চারটি সেক্টরের অধীনে ১৩টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। এসব ব্যাটালিয়নের আওতায় ২১১টি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) থেকে প্রায় ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালানি পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে এসব বিওপির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ফেনী ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলার ১৮টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরশুরামের বক্সমাহমুদ উচ্চবিদ্যালয়ে একটি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসিবুল ইসলাম বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি সবাইকে গুজব এড়িয়ে চলার এবং সীমান্ত বা আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান।