সারাবিশ্ব
রোববার সই হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক
উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক আগামী রোববার (১৪ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমা, পাকিস্তানি ও ইরানি বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খসড়ার ভিত্তিতে দুই পক্ষের আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে কিছু ভাষাগত ও রাজনৈতিক বিষয় এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
একটি পশ্চিমা সূত্র জানিয়েছে, বাকি মতপার্থক্য দূর করা গেলে রোববারই চুক্তিতে সই হতে পারে। সম্ভাব্য স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নাম শোনা যাচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে আগাম কোনো জল্পনা না করার আহ্বান জানান।
ফাঁস হওয়া খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবরুদ্ধ কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়ের উদ্যোগ নিতে পারে এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে। এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করবে।
এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ৬০ দিনের পৃথক আলোচনা চালানোর কথাও খসড়ায় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে ইরানের পূর্বের অঙ্গীকার বহাল থাকবে।
তবে খসড়ায় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ধ্বংসের বিষয়টি উল্লেখ নেই। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, চূড়ান্ত চুক্তিতে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
এদিকে সম্ভাব্য শর্তগুলো প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ইরান যে শর্তগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে প্রকৃত আলোচনার শর্তের মিল নেই।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ আলোচনায় ইসরায়েলকে এখন পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েল এই সমঝোতা স্মারকের অংশ হবে না।