সারাবিশ্ব

তীব্র তাপদাহ থেকে রক্ষায় সবার জন্য খুলে দেওয়া হলো ফ্রান্সের মসজিদগুলো


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

তীব্র তাপদাহ থেকে রক্ষায় সবার জন্য খুলে দেওয়া হলো ফ্রান্সের মসজিদগুলো
ছবি: সংগৃহীত

টানা কয়েকদিন ধরে তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপের দেশ ফ্রান্স। এই চরম আবহাওয়ার মধ্যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দেশটির বিভিন্ন মসজিদ। দাবদাহে কষ্ট পাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য মসজিদের দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যে কেউ আশ্রয় নিতে পারছেন।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের পূর্বাঞ্চলীয় শহরতলি মঁত্রইয়ের কয়েকটি মসজিদ এই উদ্যোগ নিয়েছে। তীব্র গরমে যখন ফরাসি কর্তৃপক্ষ একের পর এক স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করছে, ঠিক তখনই মসজিদ কর্তৃপক্ষ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সবার জন্য দরজা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত বয়োবৃদ্ধ, পথচারী ও অসুস্থ বোধ করা মানুষদের সহায়তায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, মসজিদের নামাজের কক্ষগুলো সাময়িকভাবে বিশ্রামকেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে। কেউ চেয়ারে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কেউ শীতল কার্পেটে শুয়ে ক্লান্তি দূর করছেন। স্বেচ্ছাসেবীরা আগতদের মধ্যে ঠাণ্ডা পানির বোতল ও খেজুর বিতরণ করছেন।

মঁত্রই মুসলিম কাউন্সিলের সভাপতি হাসান হারমুজ জানান, তীব্র গরমে মানুষের কষ্ট দেখে তাদের এই উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে। অনেকেই শীতল আশ্রয়ের জন্য খুঁজছিলেন, তাই মসজিদের দরজা সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, টানা ১০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা এই তাপপ্রবাহে পুরো সময়জুড়েই মসজিদগুলো খোলা রাখা হয়েছে। উন্নত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে মসজিদের ভেতর পরিবেশ আরামদায়ক থাকায় মানুষ সেখানে স্বস্তি পাচ্ছেন।

হাসান হারমুজ জোর দিয়ে বলেন, এই সেবা শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, বরং যেকোনো প্রয়োজনমতো মানুষকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। ইসলাম যে মানবিকতা ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়, এটি তারই প্রতিফলন।

এদিকে মঁত্রইয়ের আল-ইসলাহ মসজিদের খতিব ইব্রাহিম বালহাজ বলেন, তীব্র গরমে বিশেষ করে বয়স্ক ও গৃহহীন মানুষরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মসজিদের দায়িত্ব শুধু ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়; সংকটের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফ্রান্সে ইসলামের ইতিবাচক ও মানবিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

ফ্রান্সজুড়ে যখন তাপপ্রবাহে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো হিমশিম খাচ্ছে, তখন মঁত্রইয়ের মসজিদগুলোর এই মানবিক ভূমিকা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। দুর্যোগের সময়ে ইবাদতের স্থানগুলো যে মানুষের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে, এই উদ্যোগ তা আবারও প্রমাণ করেছে।