সারাবিশ্ব
ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি, ‘দ্রুত মুক্তি দেওয়া উচিত’: পিটিআই
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে বলে দাবি করেছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারি বলেছেন, সরকারের ন্যূনতম দায়িত্ববোধ থাকলে ইমরান খানকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য অবজারভার-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুলফি বুখারি বলেন, রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের একটি নির্জন কক্ষে বন্দি রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান। তিনি অভিযোগ করেন, ইমরানের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে এবং তার জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। এছাড়া তাকে সম্পূর্ণ একাকী কারাবন্দি রাখা হয়েছে। এমনকি পরিবারের সদস্য, বোন কিংবা আইনজীবীদের সঙ্গেও নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
চলতি সপ্তাহে কারাবন্দি জীবনের তিন বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে ১৯৯২ সালে দেশকে বিশ্বকাপ জেতানো ইমরান খান ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে দ্য অবজারভার-এ প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান খান ও কাসিম খান বলেন, তারা আর নীরব থাকতে পারছেন না। তাদের ভাষ্য, সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে তাদের বাবাকে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ কারাবাসে তার স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি হয়েছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাধীন ও নিয়মিতভাবে যোগাযোগের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না।
২০২৩ সালে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ তীব্র হওয়ার পর দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হন ইমরান খান। এরপর থেকেই তিনি কার্যত জনসম্মুখের বাইরে রয়েছেন। ২৬ কোটিরও বেশি মানুষের দেশ পাকিস্তানের সবচেয়ে পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে এ সময়ের মধ্যে মাত্র একবারই দেখা গেছে, সেটিও একটি অনলাইন আদালত শুনানির সময় ফাঁস হওয়া একটি ছবিতে।
এদিকে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য অবজারভার সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা এবং ইমরান খানের পরিবারের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, তাকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে নেপথ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংবাদপত্রটির একটি সূত্রের ভাষ্য, পাকিস্তানকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে বের করে আনতে হলে ইমরান খানকে ঘিরে চলমান সংকটের একটি সমাধান প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটির অর্থনীতি, রাজনীতি ও সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।