সারাবিশ্ব
আল-আকসা দখলের পথে ইসরাইল, জরুরি বৈঠক ডাকল জর্ডান
জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ ও ডোম অব দ্য রক ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পবিত্র এই ধর্মীয় স্থানের বর্তমান অবস্থান পরিবর্তনের আশঙ্কা থেকে আরব ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোকে নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে জর্ডান। দেশটির আশঙ্কা, আল-আকসার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থিতাবস্থা (Status Quo) পরিবর্তনের যে কোনো উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে পুরো মুসলিম বিশ্বে বড় ধরনের ধর্মীয় সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে আরব লীগের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেবেন। বৈঠকের আয়োজন করছেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি।
জর্ডানের উদ্বেগের মূল কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদি উগ্রপন্থিদের প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার পালনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। জর্ডানের হাশেমি রাজপরিবারের তত্ত্বাবধানে থাকা এই পবিত্র স্থানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মুসলিমরাই নামাজ আদায় করতে পারেন।
গত ২৩ জুলাই ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির-এর নেতৃত্বে প্রায় দুই হাজার ইসরাইলি আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। তাদের বেশিরভাগই পশ্চিম তীরের অবৈধ ইহুদি বসতির বাসিন্দা বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে তারা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও পালন করেন। জর্ডানের কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে আল-আকসার বর্তমান ব্যবস্থাপনার ওপর সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এ ছাড়া, ‘টেম্পল মাউন্ট’ এলাকায় বিশেষ পুলিশ ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা এবং আগামী সেপ্টেম্বরে ইহুদি ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জর্ডান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি বলেন, “আল-আকসার বর্তমান অবস্থায় হস্তক্ষেপ একটি ভয়াবহ ধর্মীয় সংঘাতের সূচনা করতে পারে, যার প্রভাব শুধু ফিলিস্তিন বা জর্ডানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ বা জর্ডানে স্থানান্তরের যেকোনো প্রচেষ্টা তাদের দেশের জন্য ‘রেড লাইন’। এমন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলবে।
জর্ডান দীর্ঘদিন ধরে আল-আকসা প্রাঙ্গণের ধর্মীয় তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। ১৯৯৪ সালে ইসরাইল-জর্ডান শান্তিচুক্তিতেও এ ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এদিকে, গাজা যুদ্ধ নিয়ে জর্ডানের সমালোচনার জেরে ইসরাইল দেশটিতে সরবরাহ করা পানির পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
জর্ডানের ইসলামপন্থি উম্মা পার্টির সংসদ সদস্য দিমা তাহবুব বলেন, প্রতিদিন আল-আকসায় ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, অথচ ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে জর্ডানে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধিতা আরও জোরালো হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান