সারাবিশ্ব

বাংলাদেশকে নিয়ে গঠিত প্রতিরক্ষা জোটের কমান্ডার নিয়োগ দিল সৌদি আরব


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

বাংলাদেশকে নিয়ে গঠিত প্রতিরক্ষা জোটের কমান্ডার নিয়োগ দিল সৌদি আরব
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট সুরক্ষায় বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ নিয়ে গঠিত বহুজাতিক প্রতিরক্ষা জোটের কমান্ডার নিয়োগ দিয়েছে সৌদি আরব। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে জোটটির কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জোট গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যেই এ নিয়োগ সম্পন্ন হলো।

মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন কমান্ডার জোটের যৌথ নৌ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম তদারকি করবেন। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য সামুদ্রিক জোটের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবেন এবং জোটের সনদ অনুযায়ী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করবেন।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ জুলাই সৌদি আরবের উদ্যোগে বাহরাইন, বাংলাদেশ, কমোরোস, জিবুতি, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক ও ইয়েমেন এই ১৪টি দেশ নিয়ে বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও কয়েকটি দেশ জোটে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে, অন্যরা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যুক্ত হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছে।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জোট, যেখানে জোটের লক্ষ্য ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে কোনো দেশ যোগ দিতে পারবে। নতুন সদস্যপদের আবেদনও গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে আগামী ১২ ও ১৩ আগস্ট জোটটির একটি পরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চূড়ান্ত করার পাশাপাশি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা হবে।

জোটভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের রুট নিরাপদ রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এই সামুদ্রিক অঞ্চলগুলো ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত করিডোর তৈরি করেছে।

অন্যদিকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার প্রভাব এখন হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। সংঘাতের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যে জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো, সেটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।