সারাবিশ্ব

ডিম পাড়তে আসা কচ্ছপের পিঠে উঠে ভিডিও, ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪১ এএম

ডিম পাড়তে আসা কচ্ছপের পিঠে উঠে ভিডিও, ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা
ছবি: সংগৃহীত

ওমানের সংরক্ষিত এলাকায় ডিম পাড়তে আসা একটি সামুদ্রিক কচ্ছপের পিঠে উঠে ভিডিও করার অভিযোগ উঠেছে ইউক্রেনের এক ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ইনফ্লুয়েন্সারের নাম ভাদিম ওলেইনিক। তার বয়স ৩২ বছর। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ওমানের রাস আল জিনজ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার জন্য সংরক্ষিত ওই এলাকায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওলেইনিক প্রথমে একটি ছোট কচ্ছপ হাতে তুলে নেন। পরে তিনি একটি বড় সামুদ্রিক কচ্ছপের কাছে গিয়ে সেটির পিঠে ওঠেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক কচ্ছপটি ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ সময় ওলেইনিক তার পিঠে বসে পড়েন। কচ্ছপটি চলতে থাকলে একপর্যায়ে তিনি পড়ে যান। পরে তাকে হাসতে হাসতে আবারও কচ্ছপটির পিঠে উঠতে দেখা যায়। মেট্রো ইউকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওলেইনিকের সঙ্গী ওলেনা ক্রাভচেঙ্কোকেও একই কচ্ছপের পিঠে বসে থাকতে দেখা গেছে।

ভিডিওতে ওলেইনিকের হাতে থাকা ছোট কচ্ছপটিকেও ছটফট করতে দেখা যায়। সেটি তার হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পরে ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

ইতালির সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণ প্রকল্প বায়োলজিকামেন্তালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনে। সংগঠনটি সামুদ্রিক কচ্ছপের সঙ্গে এমন আচরণের তীব্র সমালোচনা করে জানায়, সামুদ্রিক কচ্ছপ বন্য প্রাণী। তাই তাদের স্পর্শ করা কিংবা ছবি তোলার জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

বায়োলজিকামেন্তালে আরও বলেছে, বৈজ্ঞানিক কমিটির অনুমোদন পাওয়া কোনো দায়িত্বশীল ও পেশাদার সংগঠন ছবি তোলার জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের কচ্ছপের পিঠে বসার অনুমতি দেবে না। তাদের মতে, এ ধরনের আচরণ প্রাণীর শোষণ, দুর্ব্যবহার ও নির্যাতনের শামিল।

ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর ভাদিম ওলেইনিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ সংরক্ষণে কাজ করা একটি সংগঠনের কাছেও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।