সারাবিশ্ব

অস্ত্র উৎপাদন ও আধুনিকায়ন এক মুহূর্তের জন্যও থামবে না: ইরানি জেনারেল


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

অস্ত্র উৎপাদন ও আধুনিকায়ন এক মুহূর্তের জন্যও থামবে না: ইরানি জেনারেল
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের অস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক প্রযুক্তির আধুনিকায়ন কার্যক্রম কোনো অবস্থাতেই বন্ধ করা হবে না বলে দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি। তিনি বলেছেন, শত্রুপক্ষের কোনো প্রচেষ্টাই ইরানের অস্ত্র উৎপাদন ও আধুনিকায়ন কার্যক্রম এক মুহূর্তের জন্যও থামাতে পারবে না। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেছেন, দেশটির অ্যারোস্পেস ফোর্স সাম্প্রতিক সংঘাতে শত্রুপক্ষের ২৬০টিরও বেশি আকাশযান ও উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) আইআরজিসির অ্যারোস্পেস সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মোহেব্বি। এ সময় তিনি ইরানের সামরিক ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা অর্জনের বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, নিজস্ব গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির দেশীয়করণের মাধ্যমে ইরান সামরিক অস্ত্র আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে এখন বিমান ও মহাকাশ প্রযুক্তি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।

মোহেব্বি জানান, বর্তমানে ইরান শুধু নিজেদের সামরিক চাহিদাই পূরণ করছে না, বরং বিভিন্ন দেশে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি রপ্তানিও করছে। এ ক্ষেত্রে আরমান ক্ষেপণাস্ত্র, ৩৫৮ ড্রোন এবং খোরদাদ-৩ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইরান এখন নিজস্ব জ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।

সাম্প্রতিক ৪০ দিনের সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে আইআরজিসির এই মুখপাত্র দাবি করেন, ওই সময়ে ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্স শত্রুপক্ষের ২৬০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং অন্যান্য আকাশযানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে অথবা সেগুলোর কার্যক্ষমতা নষ্ট করেছে। তাঁর উল্লেখ করা লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় এফ-৩৫, এফ-১৮ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি এমকিউ-১, আরকিউ-৪, রিপার ও লুকাস ড্রোন রয়েছে। তবে এসব ক্ষয়ক্ষতির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং অব্যাহত বোমাবর্ষণের মধ্যেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে ইরান। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সামরিক উৎপাদনব্যবস্থা সচল রাখা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অব্যাহত রাখাকে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ইরানের সামরিক প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রসঙ্গে মোহেব্বি জানান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের রাডারে শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি স্টেলথ প্রযুক্তির উন্নয়নেও কাজ করছে দেশটি। তাঁর দাবি, এসব প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় দেশটি নতুন নতুন প্রযুক্তিগত সুবিধা অর্জন করছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ইরানের অস্ত্র উৎপাদন ও আধুনিকায়ন কার্যক্রম নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন আইআরজিসির মুখপাত্র। তিনি বলেন, ইরানের সামরিক উৎপাদনব্যবস্থা বন্ধ করার জন্য শত্রুপক্ষ যত ধরনের প্রচেষ্টাই চালাক না কেন, তা সফল হতে দেওয়া হবে না। দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিজস্ব প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং অস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইরান কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।