সারাবিশ্ব

অভিষেকের বাড়িতে হামলার অভিযোগ, বিজেপি ও পুলিশকে মমতার হুঁশিয়ারি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

অভিষেকের বাড়িতে হামলার অভিযোগ, বিজেপি ও পুলিশকে মমতার হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত

‘তোমাদের কতগুলো বুলডোজার আছে? সব নিয়ে এসো। সাহস থাকলে আমার শরীরের ওপর দিয়ে বুলডোজার চালিয়ে দাও।’ পশ্চিমবঙ্গের বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে এমনই কঠোর ভাষায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জি। তাঁর অভিযোগ, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির বাড়ির সামনে হামলা চালিয়েছে বিজেপির সমর্থকেরা। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে অভিষেক ব্যানার্জির বাড়ির সামনে হামলার অভিযোগ এবং এ ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে শনিবার সরব হন মমতা। দুপুরে তিনি অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। পরে স্থানীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় বিজেপি ও পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলেন তৃণমূল নেত্রী।

এ সময় মমতা বলেন, ‘আমি এখানেই দাঁড়িয়ে আছি। দেখি, তোমরা কতদূর যেতে পারো। সাহস থাকলে আমার বুকের ওপর দিয়ে বুলডোজার চালিয়ে দাও।’ তিনি আরও বলেন, মানুষ আর কত অত্যাচার, হেনস্তা ও অবিচার সহ্য করবে? বিজেপি অত্যাচারের সব সীমা অতিক্রম করেছে। যারা এসব ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের প্রকাশ্যে এসে তাঁর মুখোমুখি হওয়ারও চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।

অভিষেকের বাড়িতে হামলার ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, সারা রাত ধরে বাইরে থেকে আসা বিজেপির লোকজন পুলিশের মদতে তাঁদের এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে এবং অভিষেক ব্যানার্জির বাড়িতে হামলা করেছে। রাত ৩টার দিকে, যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, তখন কার অনুমতিতে কারও বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এ ঘটনায় কালীঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলাই বাগের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। পুলিশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অভিষেকের সঙ্গে পুলিশ অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেছে। পুলিশ নিজেদের সবকিছুর ঊর্ধ্বে মনে করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে সব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ নেই উল্লেখ করে মমতা বলেন, তিনি পুলিশকে ভালোবাসেন এবং পুলিশের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত। কিন্তু কেউ যখন সীমা অতিক্রম করে, তখন তার পরিণতি ভালো হয় না। প্রয়োজনে তিনি নিজেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে দাঁড়াবেন বলেও জানান। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে জনবিস্ফোরণের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি যখন গণতন্ত্র বাঁচানোর স্লোগান দিচ্ছে, তখন এর মধ্য দিয়েই দেশে গণতন্ত্রের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। মমতা বলেন, বিজেপির নেতারা নিজেরাই যদি গণতন্ত্র বাঁচানোর কথা বলেন, তাহলে গণতন্ত্রের অবস্থা কী, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’তে তাঁর অবস্থানের কারণেই বিজেপি ক্ষুব্ধ বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, বিজেপি অত্যাচার করবে আর বিরোধীরা নীরবে সব সহ্য করবে-এমনটা হতে পারে না।

এদিকে পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগও সামনে আনেন মমতা। তিনি দাবি করেন, দলের অনেক নেতাকর্মীকে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় হলফনামা পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি তাঁদের স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহের ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিজেপির সবাইকে দায়ী না করলেও পশ্চিমবঙ্গে দলটির নেতৃত্ব ও অর্থের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দলের একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে বাংলায় বিজেপির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং কিছু পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা কী, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। থানার ভেতরে বসে হলফনামা পূরণের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শুধু অভিষেকের বাড়িতে হামলার অভিযোগ নয়, কালীঘাটে নিজের বাড়িতে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত কালীপূজায় ভক্ত ও দলের নেতাকর্মীদের যাতায়াত বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগও তুলেছেন মমতা। তাঁর দাবি, প্রতিবছর তাঁর বাড়িতে আয়োজিত কালীপূজায় অসংখ্য ভক্ত ও দলীয় নেতাকর্মী অংশ নেন। কিন্তু এবার তাঁদের অকারণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতদিন বাড়ির ভেতরেই কালীপূজার আয়োজন হয়ে এলেও এবার মূল সড়কে অন্য একটি পূজার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর বাড়িতে আসার পথ আটকে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মমতা প্রশ্ন তোলেন, রাস্তা বন্ধ করে রাখা হলে মানুষ কীভাবে নিজেদের বাড়িতে প্রবেশ করবেন কিংবা পূজায় অংশ নেবেন? সড়ক চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার দায়িত্ব পুলিশের। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পরিবর্তে পুলিশ কেন এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে দিচ্ছে, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

অভিষেক ব্যানার্জির বাড়ির সামনে হামলার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা এবং কালীঘাটে কালীপূজায় যাতায়াতের বাধা-সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিজেপি ও সংশ্লিষ্ট পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।