জাতীয়

মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি এবং দখলদারত্বের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, কোনো ব্যক্তি দলের নাম কিংবা তাঁর নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বে জড়িত হলে তাঁকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এমন কাউকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনে তাঁকে জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।

শুক্রবার রাজধানীর রূপনগরে রূপনগর থানা ছাত্রদলের উদ্যোগে বৃহত্তর রূপনগর ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ১৮টি স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল এবং তরুণ প্রজন্মকে অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারলে অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্ররাই পারে আগামীর বাংলাদেশকে পরিবর্তন করতে। সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, মাদক নির্মূল এবং ইতিবাচক পরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে।

তরুণদের কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্রিল্যান্সিং, কেয়ারগিভিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি, মোবাইল সার্ভিসিং ও ড্রাইভিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি তাঁদের নিজেদের ও পরিবারের আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

এ সময় বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, পল্লবী ও রূপনগরসহ বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় কোনো সরকারি হাসপাতাল না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসাসেবা নিতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে যেতে হয়। এতে রোগীদের সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, পল্লবী সরকারি কলেজের পেছনে সাগুফতা মোড় এলাকায় প্রায় ১০ একর জমিতে সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুমোদন দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত হাসপাতাল নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া এলাকার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বিষয়ে সরকারি চিঠি পাওয়ার কথাও জানান তিনি। আমিনুল হক বলেন, পর্যায়ক্রমে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা সম্ভব হলে নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানদের স্বল্প খরচে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। এতে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি বিরোধী দল জনগণের কাছে না গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিজেকে এলাকার সন্তান ও সাধারণ মানুষের একজন হিসেবে উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমস্যার সঙ্গে তিনি সব সময় সম্পৃক্ত থাকতে চান। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থেকে তাঁদের সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের চাহিদা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তরুণ সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদককে 'না' বলতে হবে এবং মাদক থেকে নিজেদের দূরে রাখতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পারলেই একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।