রাজনীতি

ডিসেম্বরে কোনো আপার এ দেশে আসার সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

ডিসেম্বরে কোনো আপার এ দেশে আসার সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

‘ডিসেম্বরে কোনো আপার এ দেশে আসার সুযোগ নেই, আমরা প্রস্তুত আছি’-এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে কারও আসার প্রসঙ্গ তুলে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মতো আবারও প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য ছাত্র-জনতার প্রতি প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা কার্যক্রমের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বর মাসে মনে হয় কেউ দেশে আসতে চাচ্ছে। আপনারা কি প্রস্তুত আছেন? জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যেভাবে প্রস্তুত ছিলাম, এবারও কি সেভাবে প্রস্তুত আছি? এবার কি আগের চেয়ে বেশি হবে, না কম হবে?’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে উদারতা দেখানোর কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আগেরবার আমরা অনেক উদারতা দেখিয়েছি। আমরা ক্ষমা করে দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, ওসমান হাদির ভাষায়, শত্রুর প্রতি আমরা ইনসাফ করব, ন্যায়বিচার করব। কিন্তু গত দুই বছরে আমরা কোনো বিচার পাইনি। আমরা ওসমান হাদি হত্যার বিচার পাইনি। জুলাইয়ে আমাদের যেসব ভাই-বোন শহীদ হয়েছেন, তাঁদের হত্যারও বিচার পাইনি।’

ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে জনগণ নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মানুষ যদি ন্যায়বিচার না পায়, তখন জনগণ নিজেই প্রতিরোধ শুরু করে। ডিসেম্বর আমাদের প্রতিরোধের মাস, আমাদের বিজয়ের মাস। একাত্তরে বিজয় লাভ করেছি, চব্বিশেও বিজয় লাভ করেছি। ২০২৬ সালেও বিজয় লাভ করব ইনশাআল্লাহ। আগামী সব ডিসেম্বরেই বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা বিজয় লাভ করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের গুরুত্ব তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা কেবল ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গড়ার সময় নয়; বরং দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনেরও গুরুত্বপূর্ণ সময়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসন, পরিবহন ও শ্রেণিকক্ষের সংকট নিরসনে রাষ্ট্র এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অতীতে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নমূলক সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, র‍্যাগিং, ছাত্র নির্যাতন, গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে। এসব অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হতে হবে।

ছাত্রসংগঠনগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও উপহার দিয়ে মন জয় করাই ছাত্রসংগঠনগুলোর একমাত্র কাজ হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন ও শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে। এসব দাবি আদায়ে আন্দোলন গড়ে তোলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করাই প্রকৃত ছাত্ররাজনীতির দায়িত্ব।

এ সময় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ এবং গণতন্ত্র নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন নাহিদ ইসলাম। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যেকোনো অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখার আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।