সারাবিশ্ব

৭০–৮০ আসনে ভোট চুরি, নইলে প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না মোদি: রাহুল গান্ধী


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৫, ১০:৪৯ পিএম

৭০–৮০ আসনে ভোট চুরি, নইলে প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না মোদি: রাহুল গান্ধী
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে বিজয়ী করতে নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় অন্তত ৭০ থেকে ৮০টি আসনে ভোট চুরি হয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। 

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দিল্লিতে কংগ্রেস সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে এই অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। রাহুল বলেন, “ইসি যদি ভোট চুরি না করত, তাহলে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।”

তিনি জানান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই তাঁদের সন্দেহ তৈরি হয় এবং কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রে সেই সন্দেহ দৃঢ় হয়। কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু সেন্ট্রালের মহাদেবপুরা বিধানসভা কেন্দ্রে এক লাখের বেশি ভোট চুরির অভিযোগ তুলে রাহুল জানান, কংগ্রেস ওই লোকসভা আসনে মাত্র ৩২ হাজার ভোটে হেরেছিল। অথচ মহাদেবপুরা বাদে বাকি সব কেন্দ্রেই কংগ্রেস এগিয়ে ছিল।

কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে রাহুল জানান, শুধু মহাদেবপুরায় ৪০ হাজার ভুয়া ঠিকানা, ১২ হাজার ডুপ্লিকেট ভোটার, ১০ হাজার ৫০০ ভোটার একই ঠিকানায় নিবন্ধিত, ৪ হাজার ছবিহীন ভোটার কার্ড এবং সাড়ে ৩৩ হাজার ফর্ম-৬ এর অপব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। রাহুলের দাবি, এই কারচুপি না হলে কংগ্রেস কর্ণাটকে ১৬টি আসনে জয়লাভ করত, অথচ পেয়েছে মাত্র ৯টি।

মহারাষ্ট্র নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি। জানান, সেখানে মাত্র পাঁচ মাসে ৪০ লাখ নতুন ভোটারের নাম যুক্ত করা হয়, যার প্রভাব পড়ে বিধানসভা নির্বাচনে। যেখানে লোকসভা ভোটে ‘ইন্ডিয়া’ জোট ৩০টি আসনে জয় পায়, সেখানে বিধানসভা ভোটে বিরোধীরা ৫০ আসনেও পৌঁছাতে পারেনি।

রাহুল বলেন, “বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আঁতাত না থাকলে এভাবে জনমতের প্রতিফলন গায়েব হয়ে যেত না। ভোটের ফলাফল জনমতের বিপরীতে যাওয়ার জন্য ‘লাডলি বহিন’, ‘পুলওয়ামা’, ‘অপারেশন সিঁদুর’ ইত্যাদি নাটক সাজানো হয়।”

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও সহযোগিতা না করার অভিযোগ এনে রাহুল বলেন, “চাইলেও রাজনৈতিক দলগুলোকে ডিজিটাল ভোটার তালিকা দেওয়া হয় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তথ্য ধ্বংস করে দেওয়া হয়।”

কমিশনের পক্ষ থেকে শপথপত্রসহ প্রমাণ পেশের আহ্বান জানালে রাহুল জবাবে বলেন, “আমি জনতার সামনে যা বলেছি, সেটাই আমার শপথ। আমি যেসব তথ্য দেখিয়েছি, তার সবই নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকেই পাওয়া।”

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আপনারা যে পদেই থাকুন না কেন, কেউই ছাড় পাবেন না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভোট চুরির বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফেরানোর দাবিতে কঠোর অবস্থানে থাকবেন।