সারাবিশ্ব

দিল্লি বিস্ফোরণের পর ভারতজুড়ে সতর্কতা জারি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১৭ এএম

দিল্লি বিস্ফোরণের পর ভারতজুড়ে সতর্কতা জারি
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কমপক্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।

সোমবার (১১ নভেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে এই বিস্ফোরণের পর পুরো ভারতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা বর্তমানে দিল্লির নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দিল্লি পুলিশের মুখপাত্র সঞ্জয় ত্যাগী জানান, বিস্ফোরণটি ঘটে একটি হুন্ডাই আই-টুয়েন্টি গাড়িতে, যেখানে তিনজন আরোহী ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটির ভেতরেই বিস্ফোরক রাখা ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণ এতটাই জোরালো ছিল যে আশপাশের ভবনের জানালা কেঁপে ওঠে এবং আশপাশের কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

একজন স্থানীয় দোকানদার ওয়ালিউর রহমান সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, “আমি জীবনে এমন জোর আওয়াজ শুনিনি। বিস্ফোরণের ধাক্কায় আমি মাটিতে পড়ে যাই, তারপর দেখি চারপাশে আগুন আর আতঙ্ক।”

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বিরু সিন্ধি জানান, “সিগন্যাল লাল ছিল, সব গাড়ি থেমে ছিল। হঠাৎই একটা গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ছয়-সাতটা গাড়িতে আগুন ধরে যায়। আহতদের আমি নিজেও উদ্ধার করতে সাহায্য করেছি।”

বিস্ফোরণের ঘটনার পর রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পরে তিনি আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিস্তারিত অবহিত করেন।

অমিত শাহ জানান, ঘটনার তদন্তে নেমেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি)। তিনি বলেন, “আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। তদন্ত দ্রুত শেষ করে সত্য উদঘাটন করা হবে।”

ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যে উত্তরপ্রদেশ সন্ত্রাস দমন স্কোয়াড, এনএসজি ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।

বিস্ফোরণের পর থেকেই কলকাতা, মুম্বাইসহ ভারতের বড় শহরগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেলস্টেশন, শপিং মল, ধর্মীয় স্থান ও বিমানবন্দরে বাড়ানো হয়েছে চেকপোস্ট ও তল্লাশি।

এছাড়া দিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের লাল কেল্লা ও চাঁদনি চক এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

বিস্ফোরণের পর জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, তারা উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানায় অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন হাজার কেজি বিস্ফোরক, রাসায়নিক পদার্থ, চারটি পিস্তল ও বন্দুক উদ্ধার করেছে।

অভিযানে দুই চিকিৎসকসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নেতা এই ঘটনায় গভীর শোক ও নিন্দা জানিয়েছেন।

বর্তমানে দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় জরুরি অবস্থা-সম পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রয়েছে, এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত লাল কেল্লা ও সংলগ্ন এলাকায় প্রবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।