সারাবিশ্ব
ড. ইউনুস শাসনের অবসান, ভারতীয় গণমাধ্যমের স্বস্তি প্রকাশ
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার পর ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমে তাঁর শাসনকালকে অস্থিতিশীল ও ভারতবিরোধী নীতি এবং চরমপন্থা–চিহ্নিত সময় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ফার্স্টপোস্ট, ইন্ডিয়া ডট কম, দ্য টাইম্স অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইম্স এবং এনডিটিভি–র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড. ইউনূসের প্রশাসনের কোনো বৈধ জনম্যান্ডেট ছিল না এবং নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে নয়াদিল্লিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারিক রহমানের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইম্স ও এনডিটিভি ড. ইউনূসের বিদায়ী ভাষণকে কেন্দ্র করে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তাঁর বক্তব্যে “সেভেন সিস্টার্স” অঞ্চলের উল্লেখ এবং বাংলাদেশের “আর নতজানু নয়” পররাষ্ট্রনীতি ভারত-ঢাকা সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সামরিক আধুনিকায়ন উদ্যোগ ও চীনা বিনিয়োগকে সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
ফার্স্টপোস্ট আন্তর্জাতিক সফর ও সার্ক পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই প্রচেষ্টাকে “অবাস্তব” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
দ্য টাইম্স অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়া ডট কম অন্তর্বর্তী সময়কে চরমপন্থা বৃদ্ধির সময় হিসেবে দেখিয়েছে। ইন্ডিয়া ডট কমের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ড. ইউনূসের সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা ঘটেছে, যদিও প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট তথ্যসূত্র দেওয়া হয়নি।
ফার্স্টপোস্ট ড. ইউনূসের প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। জুলাই আন্দোলনের নেতাদের “উগ্রপন্থী” আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, জনম্যান্ডেটবিহীন একজন নেতা গভীর পরিবর্তন এনেছেন।
এনডিটিভিতে প্রকাশিত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রী–এর মতামত নিবন্ধে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির জন্য ড. ইউনূসকে দায়ী করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি গণতান্ত্রিক স্বাভাবিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছেন। তবে নিবন্ধে উত্থাপিত কিছু দাবি নিয়ে পূর্বে শটিফাই–এর মাধ্যমে ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী শাসনকাল নিয়ে ভারতের গণমাধ্যমের এই সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ দুই দেশের সম্পর্কের নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।