সারাবিশ্ব
জ্বালানি সাশ্রয়ে পাকিস্তানে স্কুল বন্ধ, বাসায় থেকে অফিসের নির্দেশ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একাধিক কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আগামী দুই সপ্তাহ দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান সাময়িকভাবে অনলাইনে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জানান, জ্বালানি ব্যবহারে চাপ কমাতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্ধেককে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকারি ও বেসরকারি অফিসে সাপ্তাহিক ছুটি একদিন বাড়ানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের অর্থনীতি, কৃষি এবং পরিবহন ব্যবস্থা অনেকাংশেই মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা পাকিস্তানের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে সরকার এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহৃত গাড়িতে আগের তুলনায় কম জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি সরকারি অফিসে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনো আসবাবপত্র, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রধানমন্ত্রীসহ সব সরকারি কর্মকর্তার বিদেশ সফরের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। গত চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তান সরকার আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।