সারাবিশ্ব

পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে অন্তত ১২ জন নিহত


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০১:২১ পিএম

পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে অন্তত ১২ জন নিহত
ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আফগান সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও হঠাৎ এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কুনার, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে বেসামরিক মানুষের বাড়িঘরে হামলা চালায়।

তার দাবি, এসব হামলায় ১১ শিশু, এক নারী ও এক বৃদ্ধসহ মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন।

খোস্ত প্রদেশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্পেরা জেলায় একটি বসতবাড়িতে হামলায় ৯ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় পৃথক আরেক হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। নিহতদের সবাই শিশু বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে পূর্বে দাবি করা হয়েছে, শুধুমাত্র পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালানো জঙ্গিদের লক্ষ্য করেই আফগানিস্তানে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা হয় না।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। এরপর কিছুটা বিরতির পর আবারও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার শহরে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দুই দেশের সংঘাতে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন।

২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান দমনে ইসলামাবাদ কাবুলের ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে।

অন্যদিকে আফগান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, পাকিস্তানই বিভিন্ন শত্রু গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে।

সাম্প্রতিক সহিংসতা বৃদ্ধির ফলে দুই দেশের সীমান্ত দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকছে, যার ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যও স্থবির হয়ে পড়েছে।