সারাবিশ্ব

ভারতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল রাজপথ, মোদির বিদায়ঘণ্টা কী বেজে গেছে?


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

ভারতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল রাজপথ, মোদির বিদায়ঘণ্টা কী বেজে গেছে?
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লিসহ দেশজুড়ে জোরদার হয়েছে তরুণদের আন্দোলন। হাজারো শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করছেন, যা এখন দেশটির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন উদ্যোগ থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা। রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মজা করে এটি শুরু করলেও অল্প সময়েই হাজারো মানুষ এতে যুক্ত হন। পরে এটি একটি বৃহৎ ছাত্র আন্দোলনে রূপ নেয়।

গত ১৯ জুলাই সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিলে দিল্লিতে হাজারো মানুষ অংশ নেন। একই সময়ে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াসহ বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ ও মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালিত হয়।

সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক-এর অনশন এই আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়। গত ২৮ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন তিনি। পরে পুলিশ তাকে জোর করে হাসপাতালে নিলে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে। বর্তমানে হাসপাতালেও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

আন্দোলনের নামকরণ নিয়েও রয়েছে ভিন্ন প্রেক্ষাপট। ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামটি গ্রহণ করা হয়। একটি শুনানিতে তিনি ভুয়া সনদধারীদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, যা নিয়ে পরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি হলো শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে।

চলতি বছরে চিকিৎসা শিক্ষার ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নেওয়া হলে বহু শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই চাপের কারণে অন্তত ২০ জন পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

সোমবার সংসদ চলো কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দিল্লি পুলিশ ছয়টি মামলা করেছে। তবে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

এদিকে ভারত–মার্কিন প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধেও আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। শত শত কৃষক গরু-মহিষ নিয়ে দিল্লিমুখী যাত্রা শুরু করেছেন। পাশাপাশি পাঞ্জাবের শিখ সম্প্রদায়সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো মানুষ শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে রাজধানীর দিকে রওনা হয়েছেন। আন্দোলন ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার আন্দোলনের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তারা সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসতে প্রস্তুত। তবে তা কোনো সরকারি দপ্তর বা মন্ত্রীর বাসভবনে নয়, যন্তর মন্তর বা নিরপেক্ষ স্থানে হতে হবে।

আন্দোলনটি ইতোমধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন পেয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী-ও সরকারের সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ইতোমধ্যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত ফল প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের তরুণ প্রজন্ম আঞ্চলিক গণআন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নিজেদের দাবি আদায়ে সংগঠিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ভারতের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।