সারাবিশ্ব
প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন না করায় মা-ভাইসহ পরিবারের ৫ জন মিলে তরুণীকে হত্যা
ভারতের উত্তর প্রদেশের আলিগড়ে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার নিজের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ভিন্ন জাতের এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর প্রমাণ নষ্ট করতে গভীর রাতে দ্রুত তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় পরিবারের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত হিমানশি চৌধুরী আলিগড়ের গোন্ডা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিএ-এলএলবি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ জানায়, হিমানশির প্রেমিক হর্ষিত বর্ষ্ণেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, প্রমাণ নষ্ট এবং সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আলিগড়ের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ নীরজ জাদৌন জানান, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় হিমানশির মা, দুই ভাই এবং দুই মামাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মামলার এজাহারে হর্ষিত উল্লেখ করেন, তিনি গোন্ডা এলাকার বাসিন্দা এবং একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করেন। দীর্ঘদিন ধরে হিমানশির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ কারণে পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন।
হর্ষিত বর্ষ্ণেয় দাবি করেন, তারা খুব শিগগিরই বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। তবে ভিন্ন জাতের কারণে হিমানশির পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তার বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত পরিবারই তাকে হত্যা করেছে।
এজাহার অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে হিমানশি হর্ষিতের দোকানে আশ্রয় নেন। কিছুক্ষণ পর তার স্বজনরা সেখানে গিয়ে প্রকাশ্যে তাকে মারধর করেন, যা দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হর্ষিত, হিমানশি এবং পরিবারের সদস্যদের থানায় নিয়ে যায়। লিখিত অঙ্গীকার নেওয়ার পর হিমানশিকে পরিবারের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
হর্ষিত আরও জানান, তিনি হিমানশিকে একটি মোবাইল ফোন দিয়েছিলেন। ফোনে কথা বলার সময় হিমানশি একাধিকবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, সম্পর্ক চালিয়ে গেলে তাকে এবং হর্ষিতকে হত্যা করা হতে পারে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৩ জুলাই রাতে পরিবারের সদস্যরা হিমানশিকে হত্যা করেন। পরে প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে দ্রুত তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা নীরজ জাদৌন বলেন, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। তদন্ত চলছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।