সারাবিশ্ব
শিক্ষা সংস্কার কমিটিতে ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’, ভারতের পার্লামেন্টে তুমুল বিতর্ক
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনের পর ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত শিক্ষা সংস্কার কমিটির এক সদস্যকে ঘিরে দেশটির পার্লামেন্টে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভারতের পার্লামেন্টে পাবলিক পরীক্ষা সংশোধনী বিল-২০২৬ নিয়ে আলোচনার সময় শিক্ষা সংস্কার কমিটির গঠন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলের অন্যতম নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
তিনি বলেন, অতীতেও শিক্ষা সংস্কারের জন্য রাধাকৃষ্ণ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে সেই কমিটির সুপারিশগুলোর কোনোটি এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। একইভাবে নতুন কমিটিও প্রত্যাশিত ফল দিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, কমিটিতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাদ্রাজের পরিচালক অধ্যাপক ভি কামাকোতির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছয় সদস্যের নবগঠিত শিক্ষা সংস্কার কমিটিতে তিনি সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, স্পিকারের মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে চান, শিক্ষা সংস্কার কমিটির উপদেষ্টাদের বিষয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। তার মতে, বর্তমান কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না, সভাপতির পরিচয় যাই হোক না কেন।
তিনি আরও বলেন, নতুন কমিটিতে একজন সাবেক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং একজন ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এ বক্তব্যের পর ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। সংসদে হট্টগোলের সৃষ্টি হয় এবং ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে চেন্নাইয়ে এক অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ভি কামাকোতি দাবি করেছিলেন, গোমূত্র মানবদেহের জন্য উপকারী এবং এর ঔষধি গুণ রয়েছে। তিনি আরও বলেছিলেন, এ বিষয়ে গবেষণা হয়েছে এবং গবেষণাপত্রও প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি