সারাবিশ্ব

পাকিস্তানে আলজাজিরার সম্প্রচার ‘নিষিদ্ধ’, ওয়েবসাইটেও প্রবেশে বাধা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৮ পিএম

পাকিস্তানে আলজাজিরার সম্প্রচার ‘নিষিদ্ধ’, ওয়েবসাইটেও প্রবেশে বাধা
ছবি: সংগৃহীত

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার সম্প্রচার পাকিস্তানে কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজাদ কাশ্মীরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নির্বাচন ঘিরে দমন-পীড়ন নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দেশটির বিভিন্ন প্রান্তের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, তারা আলজাজিরার ইংরেজি সংস্করণের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারছেন না। তবে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি।

এদিকে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আলজাজিরার বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় দাবি করে, আজাদ কাশ্মীরের নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মুজাফফরাবাদের সীমিত কয়েকটি ভোটকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট সময় ও কিছু ব্যক্তির বক্তব্য তুলে ধরে নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

মন্ত্রণালয় আরও দাবি করে, এ ধরনের প্রতিবেদন হলুদ সাংবাদিকতার উদাহরণ এবং এটি বহিরাগত স্বার্থান্বেষী শক্তির উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক হতে পারে, যারা আজাদ কাশ্মীরের নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিতর্কিত করতে চায়।

অন্যদিকে আলজাজিরা দাবি করেছে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদে ধর্মঘটের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা নির্বাচন বর্জন করেছেন। জুন মাস থেকে চলা অস্থিরতায় অন্তত ৮০ জন নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভোটগ্রহণের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা।

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানে যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত করা, সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দমনের চেষ্টা চলছে।

সংগঠনটির মতে, চলমান বিক্ষোভের মধ্যে আজাদ কাশ্মীরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, টেলিযোগাযোগ সেবা বন্ধ রাখা, সংবাদ পরিবেশনে বিধিনিষেধ আরোপ এবং সাংবাদিকদের আটক বা গুমের অভিযোগ উদ্বেগজনক।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের প্রতি সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ, তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ পুনরুদ্ধার এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।