সারাবিশ্ব

পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় নিহত বেড়ে ২৭, দায় স্বীকার টিটিপির


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম

পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় নিহত বেড়ে ২৭, দায় স্বীকার টিটিপির
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের কোহাট শহরে একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন বেসামরিক নাগরিক ও ১৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭৫ জনের বেশি মানুষ। তবে জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএর তথ্য অনুযায়ী, আহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে।

হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তানের একটি অংশ। তালেবান কমান্ডার হাফিজ গুল বাহাদুরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন নামের একটি গোষ্ঠী আত্মঘাতী হামলাটি চালানোর দাবি করেছে।

শুক্রবার জুমার নামাজের সময় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট শহরে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি মসজিদের প্রবেশপথে বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। বিস্ফোরণের পর কয়েকজন বন্দুকধারী পুলিশ কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়।

প্রাদেশিক পুলিশের প্রধান জুলফিকার হামিদ আত্মঘাতী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মসজিদটির একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পুলিশ স্টেশনের বাইরের দেয়ালও ধসে পড়ে।

উদ্ধারকর্মীদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিলাল ফায়জি জানান, নিহত ও আহতদের বেশির ভাগই ছিলেন নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ শহরের অনেক দূরের এলাকাতেও শোনা গেছে।

চিকিৎসক তাহির শাহ জানান, অন্তত ২৭টি মরদেহ এবং ১০০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো আহতের সংখ্যা অন্তত ৭৫ বলে জানিয়েছে।

ইসলামাবাদ থেকে সাংবাদিক কামাল হায়দার জানান, হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ছয় হামলাকারী নিহত হয়েছে।

কোহাট শহরটি আফগানিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি। উত্তর ওয়াজিরিস্তানসহ কয়েকটি অশান্ত অঞ্চলে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে শহরটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। বন্নু ও ডেরা ইসমাইল খানেও যাওয়ার পথে পড়ে কোহাট।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটিতে তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তানসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে কাবুল বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তান আফগান তালেবান থেকে পৃথক একটি সংগঠন হলেও দুই পক্ষের মধ্যে জোট রয়েছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে আবার ক্ষমতায় আসে তালেবান।

কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের ভিজিটিং অধ্যাপক এবং আফগানিস্তানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাবেক প্রতিনিধি মাইকেল সেম্পল বলেন, এ ধরনের জটিল হামলা পরিকল্পনা, রসদ ও প্রশিক্ষণ ছাড়া চালানো সম্ভব নয়। তার মতে, এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর লক্ষ্য পাকিস্তান সরকারকে উৎখাত করা।

সেম্পলের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার ধরন দেখে ধারণা করা যায়, আফগান তালেবানের আশ্রয় পেয়ে আল কায়েদা এবং তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তানের বিভিন্ন অংশ এ ধরনের হামলার জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

এ হামলাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আরও আলোচনায় এসেছে। দুই দেশই বিভিন্ন সময়ে সীমান্তের ওপারে হামলার অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ করে আসছে।

এর মাত্র দুই দিন আগে উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের হাঙ্গু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে সড়কের পাশে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে ছয় সেনা সদস্য নিহত হন। এর পরদিন সরকারি বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ জন সন্দেহভাজন তালেবান যোদ্ধাকে হত্যা করেছে বলে সামরিক বাহিনী ও পুলিশ জানিয়েছে।

কোহাটের মসজিদে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা দ্রুততর করার নির্দেশ দিয়েছেন।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলাটিকে কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের দৃঢ় সংকল্প দুর্বল করতে পারবে না।

সূত্র: আল-জাজিরা