সারাবিশ্ব

যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে ইরানে অস্ত্র হাতে লাখো মানুষের সমাবেশ


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৭ এএম

যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে ইরানে অস্ত্র হাতে লাখো মানুষের সমাবেশ
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক মাসের যুদ্ধের পর আবারও সংঘাতের প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছে ইরান। শুক্রবার রাজধানী তেহরানে সরকারের আয়োজনে বিশাল এক সমাবেশে অংশ নিয়ে লাখো মানুষ দেশ রক্ষায় প্রয়োজনে অস্ত্র হাতে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আবারও লড়াইয়ের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তারা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের রাজপথে তিন লাখের বেশি মানুষ সমবেত হন। দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর তেহরান শাখার প্রধান জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ দাবি করেছেন, ইতোমধ্যে ছয় লাখের বেশি মানুষ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিবন্ধন করেছেন। সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।

সরকারের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জানফাদায়ে ইরান’। এর অর্থ ‘ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গকারী’। কর্মসূচির আওতায় স্বেচ্ছাসেবীদের সীমিত সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ব্যবহারের প্রশিক্ষণও রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কয়েক দিন ধরে জনগণকে এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবীরা বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী ও এর স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর হিসেবে কাজ করবেন বলে জানানো হয়েছে।

সমাবেশে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর নতুন প্রধান হোসেইন তাইয়েব বলেন, স্বেচ্ছাসেবীরা পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। শিগগিরই দেশের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের সমাবেশ আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।

সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা মাড়িয়ে দেন এবং দুই দেশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। অংশগ্রহণকারীদের একজন বলেন, ইরানিরা মার্কিন হুমকিকে ভয় পায় না।

সমাবেশে নিজেদের সামরিক সক্ষমতাও তুলে ধরে ইরান। সেখানে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ড্রোন প্রদর্শন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের বিরুদ্ধে এসব ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহারের দাবি করেছে ইরান।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে তেহরান। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।