সারাবিশ্ব
গিটারকে যাত্রী ভেবে হেলমেট না পরার জরিমানা দিল এআই ক্যামেরা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রযুক্তির নির্ভুলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ভারতের বেঙ্গালুরুতে। স্কুটারে পেছনের যাত্রীর মাথায় হেলমেট না থাকার অভিযোগে চালান বা জরিমানার নোটিশ পাঠিয়েছে ট্রাফিক পুলিশের একটি স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা। তবে ক্যামেরার চোখে দ্বিতীয় যাত্রী মনে হওয়া বস্তুটি আসলে ছিল একটি গিটারের বাক্স।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌভিক দত্ত নামের এক ব্যক্তি সম্প্রতি তার স্ত্রীর বৈদ্যুতিক স্কুটার নিয়ে বেঙ্গালুরুর হেববাল থেকে টিন ফ্যাক্টরির দিকে যাচ্ছিলেন। তার মাথায় হেলমেট ছিল। পিঠে ঝোলানো ছিল একটি গিটারের বাক্স।
কিন্তু রাস্তার মোড়ে স্থাপিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ট্রাফিক ক্যামেরা গিটারের বাক্সটিকে পেছনের আসনে বসা দ্বিতীয় যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করে। এরপর হেলমেট না পরার অভিযোগে ৫০০ রুপির জরিমানার নোটিশ জারি করা হয়। পরে সেই নোটিশ স্কুটারের মালিক সৌভিকের স্ত্রীর কাছে পৌঁছায়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরসের পাশাপাশি সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সৌভিক দত্ত ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি ও জরিমানার তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করে বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পোস্টে তিনি ব্যঙ্গ করে লেখেন, পিঠে গিটার ঝুলিয়ে একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন তিনি। অথচ তার স্ত্রী হেলমেট ছাড়া পেছনের যাত্রী বহনের অভিযোগে জরিমানার নোটিশ পেয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তকরণ ব্যবস্থার নির্ভুলতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে ভুল জরিমানার নোটিশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সৌভিকের পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই এ ধরনের ভুল শনাক্তকরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ নিজেদের একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।
এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ট্রাফিক ক্যামেরায় এ ধরনের ভুল প্রায়ই ঘটে। তাই এমন ভিত্তিহীন জরিমানা পরিশোধের প্রয়োজন নেই।
অন্য একজন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভুল জরিমানা বাতিল করতে গেলে চার থেকে পাঁচ মাস ধরে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। আবার কেউ কেউ রসিকতা করে বলেন, ছবিতে তো পেছনের যাত্রীর মাথায় হেলমেট দেখা যাচ্ছে না!
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসাব থেকেও সাড়া দেওয়া হয়েছে। সৌভিককে নির্ধারিত ইমেইল ঠিকানায় আবেদন অথবা নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে ভুল জরিমানার প্রতিকার নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।