সারাবিশ্ব

ভারতে এবার ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচি ঘোষণা ককরোচ পার্টির


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

ভারতে এবার ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচি ঘোষণা ককরোচ পার্টির
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে শুক্রবার রাতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দীপকে জানান, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলটির সমর্থকেরা দিল্লিতে গিয়ে বিক্ষোভ করবেন। তিনি কর্মসূচিটিকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশী নাগরিকদের এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে শুক্রবার মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে আয়োজিত এক সমাবেশেও জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ‘জন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন দীপকে।

দুপুরের তীব্র গরম ও পুলিশের ব্যারিকেড উপেক্ষা করে আয়োজিত ওই বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক তরুণ তরুণী অংশ নেন। তবে কর্মসূচিটির জন্য পুলিশ অনুমতি দেয়নি।

দলটির নেতা অজিঙ্কা শিন্ডে বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা উচিত। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা স্থগিত এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পদ্ধতি নির্ধারণকারী ২০২৩ সালের আইন বাতিলের দাবিও জানান তিনি।

সমাবেশে দীপকে অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার পর বিজেপি এমন কয়েকটি রাজ্যে জয় পেয়েছে, যেখানে নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ সময়েও দলটি জয় পায়নি।

তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে সারা দেশ থেকে তরুণ প্রজন্ম দিল্লিতে যাবে। এ সময় তিনি ‘চলো দিল্লি’ স্লোগান দেন।

নীট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আগে জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে দীপকে বলেন, সরকার এতটাই অযোগ্য যে দুই মাসের মধ্যেই আবার আন্দোলনে নামতে হচ্ছে।

একসঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রকৃত লক্ষ্য ‘এক দেশ, এক নির্বাচন, এক দল’ প্রতিষ্ঠা করা।

দীপকের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে কথিত অনিয়মের সূত্রপাত মহারাষ্ট্রে হওয়ায় সেখান থেকেই আন্দোলন শুরু করা হয়েছে। তার দাবি, গত দুই বছরে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে ভারতে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৯৭ কোটি। ওই নির্বাচনে এনডিএ ও ইন্ডিয়া জোটের জয় পরাজয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ২ শতাংশ। নির্বাচনের ১৫ দিন আগে জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়োগ দেওয়ার পেছনেও উদ্দেশ্য ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন দীপকে। তার দাবি, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৪০ লাখ ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করে বিজেপি জয় পেয়েছে।

দিল্লিতে আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আসনে ৪০ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, কেজরিওয়াল ৪ হাজার ভোটে পরাজিত হন।

তামিলনাড়ুতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের আসন থেকে প্রায় এক লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসনেও একই ধরনের ঘটনা ঘটার অভিযোগ করেন দীপকে।

বিজেপির সমর্থকেরা তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক ও ঝাড়খণ্ডে বিরোধীদের বিজয়ের উদাহরণ দিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার যুক্তি দেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। জবাবে দীপকে বলেন, নির্বাচন পাতানো হলে সব বল নো বল হয় না, সব ক্যাচও পড়ে যায় না।

মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ও এনসিপির পর বিজেপি অন্যান্য আঞ্চলিক দলকেও দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একনাথ শিন্দের নেতৃত্বাধীন শিবসেনাকে ‘শেল কোম্পানি’ বলেও অভিহিত করেন।

বিক্ষোভে চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা

শিবাজি পার্কের সমাবেশে প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ ও শাবানা আজমি, চলচ্চিত্র নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজ ও হানসাল মেহতা, সংগীতশিল্পী বিশাল দাদলানি এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের আপত্তি এবং দাদর স্টেশন পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা সেখানে অবস্থান করেন। এ সময় তারা স্লোগান দেন, গান্ধীর বিভিন্ন উক্তি তুলে ধরেন এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

বিক্ষোভে ভারতের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক পোস্টারও দেখা যায়। এসব পোস্টারে নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তুলে ধরা হয়।

শিক্ষার্থী ফেডারেশন অব ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী ও তরুণেরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। শিক্ষার্থী মনীশ মণ্ডল চকলেটের মোড়ক দিয়ে তৈরি গয়না পরে এবং একটি ব্যঙ্গাত্মক ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেন। পুনের কয়েকটি বামপন্থী সংগঠনও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশের মঞ্চে অহিংসা ও সরলতা নিয়ে তার বিভিন্ন উক্তি প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে বাবাসাহেব আম্বেদকরের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়। বিক্ষোভে ‘রং দে বাসন্তী’ চলচ্চিত্রের শিরোনাম গান এবং এ আর রহমানের ‘বন্দে মাতরম’ গান বাজানো হয়।

শিবসেনা (ইউবিটি) এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে। দলটির স্থানীয় বিধায়ক মহেশ সাওয়ান্ত জানান, অসুস্থতার কারণে আদিত্য ঠাকরে সমাবেশে উপস্থিত হতে পারেননি।

অন্যদিকে, দিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনায় দিল্লি পুলিশের সমালোচনা করেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা সৌরভ দাস। তিনি পুলিশকে সতর্ক করে বলেন, নিজেদের আচরণ সংশোধন করতে হবে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আইন শিক্ষার্থী আয়ান প্যাটেল বলেন, তার কলেজের অনেক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। ভোটাধিকার সুরক্ষিত না থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে বক্তব্য দেওয়া কিশোরী আনুজা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উচিত ছিল তার সমর্থকদের জন্য কিছু করা।