সারাদেশ
শরীয়তপুরে নিখোঁজের ৬ ঘণ্টা পর শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় নিখোঁজের ছয় ঘণ্টা পর সোয়াইফ হোসেন নামে তিন বছর বয়সী এক শিশুর বস্তাবন্দি গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত পরিবারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আদাসন এলাকার একটি ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সোয়াইফ ওই এলাকার সেলিম সরদার ও শিমুলি দম্পতির সন্তান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৭টার দিকে বাড়ি থেকে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সোয়াইফ। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অনুসন্ধান শুরু করেন।
একপর্যায়ে প্রতিবেশী আবু আলম শিকদারের বসতঘরের পেছনের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত পরিবারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় আবু আলম শিকদারের ছেলে রাসেলকে আটক করে পুলিশ।
নিহত শিশুর স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিবেশী আলী আকবর শিকদারের পরিবারের সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সেলিম সরদারের পরিবারের ঝগড়া হয়। ওই ঘটনার জেরেই শিশুটিকে হত্যা করে বস্তাবন্দি অবস্থায় ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।
শিশুটির বাবা সেলিম সরদার বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তার মায়ের সঙ্গে প্রতিবেশী আলী আকবরের ঝগড়া হয়। রাতে তার মা বিষয়টি তাকে জানান। শনিবার সকালে তিনি বাজারে গেলে ফিরে এসে সন্তানকে খুঁজে পাননি।
পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে আলী আকবরের বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে তার ছেলের বস্তাবন্দি গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন শিশুটির বাবা।
তবে অভিযুক্ত পরিবারের কোনো সদস্য বাড়িতে না থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) শামসুল আরেফীন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। হত্যাকাণ্ডে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।