প্রবাস

‘আমি হয়তো বাঁচব না’, সৌদি থেকে গোপনে ভিডিও পাঠিয়ে রেহেনার আকুতি


প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

‘আমি হয়তো বাঁচব না’, সৌদি থেকে গোপনে ভিডিও পাঠিয়ে রেহেনার আকুতি
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে নির্যাতন, বেতন না পাওয়া ও অতিরিক্ত কাজের চাপের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুরের গৃহবধূ রেহেনা খাতুন। গোপনে ভিডিওবার্তা পাঠিয়ে দেশে ফেরার জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। তার পরিবারের অভিযোগ, দেশে ফিরতে চাইলে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে।

বর্তমানে সৌদি আরবের জেদ্দার আলহাদা এলাকার একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন রেহেনা। তিনি মাধবপুর উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী মহল্লার বাসিন্দা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) নিজের অবস্থানের ভিডিও ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য গোপনে সাংবাদিকদের কাছে পাঠান রেহেনা। সেখানে তিনি নির্যাতন ও শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করেন।

ভিডিওবার্তায় রেহেনা বলেন, তিনি জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। তাকে নানাভাবে চাপ ও কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। অসুস্থতার কারণে বেঁচে থাকা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। নিয়মিত বেতন-ভাতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সরকারের কাছে তাকে উদ্ধার করে দেশে ফেরানোর আকুতি জানান।

রেহেনার পরিবারের অভিযোগ, সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকে তাকে অতিরিক্ত কাজ করানো হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না। দেশে ফিরতে চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে।

রেহেনার স্বামী আলী আহমদ সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে তার স্ত্রীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

রেহেনাকে সৌদি আরবে পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দালাল হিসেবে গিয়াস উদ্দিনের নাম উল্লেখ করেছে পরিবার। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার মোকন্দপুরের বামুটিয়া গ্রামে।

অভিযোগের বিষয়ে গিয়াস উদ্দিন বলেন, কিছু খরচ দিলে রেহেনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা যাবে। সৌদি আরব গেলেই যে সহজে দেশে ফিরে আসা যায়, তা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে ঢাকার ফকিরাপুলের সংশ্লিষ্ট জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান জেনিয়া ওভারসিসের কর্মকর্তা হাসান মিয়া নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, রেহেনা কোনো নির্যাতনের শিকার নন। দেশে ফিরতে হলে প্রতিষ্ঠানকে খরচ দিতে হবে। শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে তাদের কিছু করার নেই বলেও জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই গ্রামের জোসনা আক্তার নামে আরেক নারী কর্মীর সঙ্গে অন্যায়ের অভিযোগে সম্প্রতি জেনিয়া ওভারসিসের লাইসেন্স বাতিল করেছিল প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

রেহেনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তার স্বামী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপসহকারী পরিচালক মালেকা বেগম বলেন, আবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে। রেহেনাকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় চেষ্টা করা হবে।