সারাবিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউনে বিপর্যস্ত আকাশপথ, একদিনে বাতিল ১ হাজার ৪০০ ফ্লাইট


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:২৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউনে বিপর্যস্ত আকাশপথ, একদিনে বাতিল ১ হাজার ৪০০ ফ্লাইট
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সরকারি অচলাবস্থার (শাটডাউন) প্রভাবে দেশটির আকাশপথে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। শনিবার (৮ নভেম্বর) একদিনেই ১ হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং আরও কয়েক হাজার ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি অচলাবস্থা দ্বিতীয় দিনে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ব্যাপক ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানিয়েছে, ওই দিন প্রায় ৬ হাজার ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের পর ছাড়ে। শুক্রবার এই সংখ্যা ছিল সাত হাজারেরও বেশি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সতর্ক করেছিল, বেতন ছাড়া কাজ করা বিমান নিয়ন্ত্রকদের ক্লান্তি ও অনুপস্থিতির কারণে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত ৪০টি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে।

গত ১ অক্টোবর শুরু হওয়া সরকারি অচলাবস্থা এখনো অব্যাহত রয়েছে। কংগ্রেসে অর্থায়ন ইস্যুতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় এই সংকটের সমাধান হয়নি। শনিবার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম অচলাবস্থার ৩৯তম দিন। এর প্রভাবে বিমান চলাচল, খাদ্য সহায়তা, এমনকি সাধারণ প্রশাসনিক কার্যক্রমেও অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। সপ্তাহান্তেও সিনেটররা আলোচনায় বসে সমঝোতার চেষ্টা করছেন।

এই পরিস্থিতিতে আমেরিকান এয়ারলাইনস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “অচলাবস্থা দ্রুত সমাধান করতে এখনই রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় পুরো বিমান পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।”

সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দেখা গেছে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে। স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল পর্যন্ত সেখানে আগত ফ্লাইটগুলো গড়ে চার ঘণ্টারও বেশি দেরিতে পৌঁছেছে এবং ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটগুলোও দেড় ঘণ্টার বেশি বিলম্বিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে শার্লট/ডগলাস ইন্টারন্যাশনাল, নিউয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল ও শিকাগো ও’হেয়ার ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে। এফএএ জানিয়েছে, শনিবার বিকেল পর্যন্ত জন এফ কেনেডি, হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা ও লা গার্ডিয়া বিমানবন্দর থেকেও ফ্লাইট ছাড়তে গড়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হয়েছে।

এদিকে পরিবহন দপ্তরের মন্ত্রী ডাফি জানিয়েছেন, ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোর চাপ কমাতে ব্যক্তিগত জেট চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোয় ব্যক্তিগত জেটের সংখ্যা কমানো হয়েছে। তাদের ছোট বিমানবন্দর ব্যবহার করতে বলা হয়েছে, যাতে বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলোর ওপর চাপ কমে।”

এফএএ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে ধীরে ধীরে ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে ধাপে ধাপে ফ্লাইট বাতিলের হার ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে। তারা জানায়, বেতন ছাড়া কাজ করায় বিমান নিয়ন্ত্রকদের মধ্যে ক্লান্তি, অসুস্থতা ও অনুপস্থিতি বাড়ছে। অনেক নিয়ন্ত্রক নিত্যপ্রয়োজন মেটাতে অতিরিক্ত কাজও করছেন, যা নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

শুধু বিমান নিয়ন্ত্রকরাই নয়, ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি এজেন্সি (টিএসএ)-এর ৬৪ হাজার কর্মীরও অধিকাংশই বেতন পাচ্ছেন না। এতে বিমানবন্দর নিরাপত্তা কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে। ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কার অচলাবস্থায় টিএসএ কর্মীদের প্রায় ১০ শতাংশ বেতন ছাড়া কাজে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে যদি দ্রুত সমাধান না আসে।