সারাবিশ্ব

মশা দমনে নতুন উদ্যোগ, ছাড়া হবে ৬ লাখ পুরুষ মশা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১০ পিএম

মশা দমনে নতুন উদ্যোগ, ছাড়া হবে ৬ লাখ পুরুষ মশা
ছবি: সংগৃহীত

মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে নতুন এক বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রায় ৬ লাখ বিশেষ প্রজাতির পুরুষ মশা ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

ওয়াশিংটনের বাসিন্দা টড মন্টগোমারি নিজের বাড়ির আঙিনায় একটি ছোট টিউব খুলে শত শত মশা ছেড়ে দেন। তবে এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। তিনি যে মশাগুলো ছেড়েছেন, সেগুলো সবই পুরুষ মশা, যা মানুষকে কামড়ায় না।

এই পুরুষ মশার শরীরে ‘ওলবাকিয়া’ নামে একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া থাকে। যখন এই মশাগুলো ব্যাকটেরিয়াবিহীন স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন স্ত্রী মশার ডিম আর ফুটে না। ফলে নতুন মশার জন্ম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক এলাকায় এই ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম। গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ পুরো এলাকায় প্রায় ৬ লাখ এশিয়ান টাইগার প্রজাতির মশা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মশা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বি সেফ মসকুইটো কন্ট্রোল’-এর প্রতিষ্ঠাতা টড মন্টগোমারি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উষ্ণ ও আর্দ্র দিনের সংখ্যা বাড়ছে, যা রোগবাহী মশার বংশবিস্তার ও সক্রিয় থাকার সময় দীর্ঘ করছে।

‘জ্যাপ মেলস’ নামে পরিচিত এই পদ্ধতি বর্তমানে শুধু এশিয়ান টাইগার মশার ক্ষেত্রে কার্যকর। এই প্রজাতির মশা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় না হলেও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু বহন করতে সক্ষম। সম্প্রতি উত্তর ভার্জিনিয়ায় স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প তৈরি করা। মন্টগোমারি বর্তমানে কীটতত্ত্বে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবান্ধব সমাধান খোঁজার আগ্রহ থেকেই তিনি এ উদ্যোগ শুরু করেন।

এই পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেক বাসিন্দাও। তারা প্রচলিত কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেদের পরিবার ও পোষা প্রাণীকে সুরক্ষিত রাখতে চান। বিশেষ করে বহুল ব্যবহৃত বাইফেনথ্রিন নামের রাসায়নিকটি সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী হওয়ায় অনেকেই এর ব্যবহার এড়িয়ে চলছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা স্যান্ড্রা মারকুয়ার্ট জানান, আগে গ্রীষ্মকালে মশার উপদ্রবের কারণে বাগানে যাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। তবে এই পদ্ধতি চালুর পর এখন তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ির বারান্দায় সময় কাটাতে পারছেন।

বর্তমানে ২৫ জন গ্রাহক এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন। প্রত্যেকে ১৬ সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে প্রায় দেড় হাজার পুরুষ মশা পাচ্ছেন।

এদিকে, এই পদ্ধতির বড় ধরনের প্রয়োগ ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরে চলছে। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া ‘প্রজেক্ট ওলবাকিয়া’-এর আওতায় সেখানে প্রতি সপ্তাহে ১ কোটিরও বেশি পুরুষ মশা ছাড়া হচ্ছে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতি প্রয়োগের ফলে এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির মশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি ৭০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে।

এ ধরনের আরেকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সম্প্রতি ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩ কোটি ২০ লাখ মশা ছাড়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। 

সূত্র: বাসস