সাক্ষাৎকার

বিয়ের দাবি করায় গলাচেপে হত্যা, ১০ দিন পর প্রেমিক গ্রেপ্তার


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম

বিয়ের দাবি করায় গলাচেপে হত্যা, ১০ দিন পর প্রেমিক গ্রেপ্তার
ছবিঃ সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাদিয়া আক্তার (২৩) নামে এক পোশাককর্মীকে গলাচেপে হত্যার অভিযোগে তার প্রেমিক আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ানকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে সংস্থাটি। আদালতে হাজির করা হলে অভিযুক্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকা থেকে আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রিয়াজ মোল্লা বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই জানায়, সাদিয়া আক্তার আগে প্রথম স্বামী শহীদুল ইসলামকে তালাক দেন। পরে ইব্রাহীম নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। প্রথম স্বামীর সংসারে তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের আগে ইব্রাহীম নিজেকে অবিবাহিত দাবি করলেও পরে সাদিয়া জানতে পারেন, তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

তদন্তে উঠে আসে, পরবর্তীতে সাদিয়া একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। গত ১ জুলাই থেকে তারা সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।

পিবিআইয়ের ভাষ্য, সাদিয়া রাজ্জাককে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে গত ১২ জুলাই তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাজ্জাক গলাচেপে সাদিয়াকে হত্যা করেন।

পরদিন ১৩ জুলাই রাত প্রায় ১০টার দিকে বাড়ির মূল ফটক খোলা দেখে সন্দেহ হয় বাড়ির মালিকের। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে তিনি ঘরের সামনে গিয়ে সাদিয়াকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

তদন্তকারীদের ধারণা, ১২ জুলাই দুপুর থেকে ১৩ জুলাই রাতের মধ্যে কোনো একসময় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।

ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে প্রথমে নিহতের দ্বিতীয় স্বামী ইব্রাহীমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তদন্তে প্রকৃত হত্যাকাণ্ডে প্রেমিক আব্দুর রাজ্জাকের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।