আইন আদালত

দুদকের সেই শরীফকে চাকরি ফেরত দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৫, ০১:৩২ পিএম

দুদকের সেই শরীফকে চাকরি ফেরত দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বহুল আলোচিত সাবেক উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিনকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বরখাস্তের দুই বছর পর বুধবার (৯ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় দেন। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, শরীফ উদ্দিনের বরখাস্ত “আইন ও ন্যায়ের পরিপন্থী” ছিল এবং তাকে ৩০ দিনের মধ্যে পূর্বের পদে ফিরিয়ে দিতে হবে।

এছাড়া তার সব ধরনের আর্থিক পাওনা ও চাকরিসংক্রান্ত সুবিধাও ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত বলেন, “একজন সৎ, নির্ভীক ও কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তাকে কোনো ধরনের বিভাগীয় শুনানি ছাড়া বরখাস্ত করা সংবিধান ও প্রশাসনিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।” রায়ে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিতে পারে না, বিশেষ করে যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় শরীফ উদ্দিন কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে ভূমি অধিগ্রহণ, অবৈধ সম্পদ এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে একাধিক সাহসী তদন্ত পরিচালনা করেন। এতে প্রভাবশালী মহল চাপে পড়ে এবং শেষমেশ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্তের চিঠিতে বলা হয়, ‘প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাওয়ায় তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।’ এই ঘটনাকে দেশ-বিদেশের নাগরিক সমাজ ‘সততার শাস্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে।

শরীফ উদ্দিন এরপর হাইকোর্টে রিট করেন এবং দাবি করেন, সংবিধানের ২৭, ২৯ ও ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার বরখাস্ত অন্যায্য।

দুদকের পক্ষে আদালতে দাবি করা হয়, এটি কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি নাকচ করে জানিয়ে দেন— রাষ্ট্রীয় প্রশাসন কোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছামতো এভাবে চাকরি থেকে সরিয়ে দিতে পারে না।

রায়ের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনসাধারণ ও নাগরিক সমাজ থেকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই বলেন, “এটি ন্যায়ের জয় এবং একজন সাহসী কর্মকর্তার জন্য সম্মানের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।”

দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলো হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলছে, এটি ভবিষ্যতে অন্য কর্মকর্তাদেরও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ জোগাবে।

বামধারার রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, সরকারের উচিত ছিল শরীফ উদ্দিনকে উৎসাহ ও সুরক্ষা দেওয়া। বরং বরখাস্তের মাধ্যমে ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছিল। এ রায়ের মধ্য দিয়ে সেই অন্যায় কিছুটা হলেও সংশোধনের সুযোগ তৈরি হলো।

প্রশাসনিক বিশ্লেষক ও আইনবিদদের মতে, এই রায় শুধু একজন কর্মকর্তার চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশের প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার প্রশ্নে একটি নজির স্থাপন করল।

এখনও পর্যন্ত দুদকের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে সংস্থার ভেতরে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে শরীফ উদ্দিন হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমি আবারও জনগণের কল্যাণে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত।”