আইন আদালত
পলাতক শেখ হাসিনাসহ আসামিদের পক্ষে লড়বেন জেড আই খান পান্না
আওয়ামী লীগ শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৩ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের রাষ্ট্রীয় ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্নাকে নিয়োগ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন। এর আগে সকাল ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর ১৩ কর্মকর্তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এই দুই মামলার মোট আসামি ৩০ জন, যার মধ্যে অন্তত ১০ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে, বাকি সবাই পলাতক।
হাজির হওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, অবকাশকালীন ছুটিতে থাকা কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লে. কর্নেল মশিউর রহমান, লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিকী।
সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়ে। পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে, এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা জানিয়েছেন।
গত ২০ নভেম্বর মামলার শুনানির দিন নির্ধারিত থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদন বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল নতুন তারিখ হিসেবে আজকের দিন ধার্য করে। এর আগে ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা ১৩ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজিরে দুইটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়, যা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এ দুই মামলার একটিতে র্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলাটি জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা আয়নাঘরে গুমের ঘটনায় দায়ের, যেখানে শেখ হাসিনা ও তারিক সিদ্দিকের নামও রয়েছে।
জেআইসি মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল মো. সাইফুল আলম, সাবেক ডিজি লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিকী ও লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক। এ মামলায় তিনজন কারাগারে থাকলেও বাকিরা এখনো পলাতক।
ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় গত ৮ অক্টোবর। অভিযোগ আমলে নিয়ে ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।