জাতীয়

ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন নিয়ে টালবাহানার কিছু নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৫, ০৮:২৯ এএম

ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন নিয়ে টালবাহানার কিছু নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসে। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা চলছে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা হচ্ছে না। তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান খোঁজা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিস্তা নদী নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “যদি কেউ বলে টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না, তাহলে বলব— এখানে টালবাহানার কিছু নেই। আমরা চেষ্টা করছি। তবে গত ১৫-২০ কিংবা ৩০ বছরের মধ্যে ভারত থেকে এ বিষয়ে কোনো আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি পাইনি। বহু বছর আগে একবার ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু তখন আমরা সেটি গ্রহণ করিনি। বর্তমানে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বিষয়টি।”

তিনি আরও বলেন, “এই ইস্যুতে টালবাহানার সুযোগ নেই। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। কতটুকু সফল হবো তা সময়ই বলে দেবে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ছাড়া এই সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।”

এ সময় মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার হওয়া ৩৬ বাংলাদেশির ব্যাপারে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখনো তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আমরা পাইনি।”

প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে নেওয়া উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি জানান, “বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের নানা সমস্যার সমাধানে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব হয়নি, তবে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। ওমানে আমরা কর্মীদের পাসপোর্ট সরাসরি দেয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি, যাতে তাদের আর রাস্তায় রোদে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে না হয়। অন্যান্য দূতাবাসগুলোতেও এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আক্ষেপ শব্দটি ব্যক্তিভেদে ভিন্নরকম অনুভব হতে পারে। তবে আমি এটিকে এভাবে দেখি— আমরা তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক চিঠিপত্র পাঠিয়েছি। প্রয়োজনে এর ফলোআপও করা হবে। এটুকুই বলা যায়।”

এক বছরের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কী ধরনের সংস্কার হয়েছে এবং তাতে তারা কতটা সন্তুষ্ট— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “সংস্কার বিষয়ে কখনোই সন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়। কারণ, কেউ যদি সন্তুষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তার আর কিছু করার থাকে না। আমরা চেষ্টা করছি মন্ত্রণালয়টিকে আরও বেশি জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে।”