জাতীয়

ঋণ জালিয়াতিতে অর্থ আত্মসাৎ, অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত কারাগারে


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৫, ০৭:০৭ পিএম

ঋণ জালিয়াতিতে অর্থ আত্মসাৎ, অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত কারাগারে
অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত। ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতকে।

শুক্রবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।

দুপুরের পর আবুল বারকাতকে একটি দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে, বারকাতের আইনজীবী জামিন আবেদন করলে তাৎক্ষণিক শুনানি সম্ভব হয়নি, কারণ দুর্নীতি দমন সংশ্লিষ্ট বিশেষ আদালত সেদিন বন্ধ ছিল। ফলে শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত হওয়া পর্যন্ত আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল তাঁকে আটক করে। পরে শুক্রবার তাঁকে দুদকের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপকে দেওয়া ঋণের নামে মোট ২৯৭ কোটি ৩৮ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৬ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২০ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় মোট ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজী হাসান, জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাত, সাবেক পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, অ্যাননটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ বাদলসহ একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক কর্মকর্তারা।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া রেকর্ড তৈরি করে ঋণ প্রদান দেখিয়ে বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন। পাশাপাশি এই অর্থ মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশেও পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত ২২টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৩ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। এ নিয়ে ২০১২ সালেই প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক, যা ২০২২ সালে অভিযোগের পরিসমাপ্তির মধ্য দিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের পর নতুন করে অনুসন্ধান শুরু হলে প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে বর্তমান মামলাটি দায়ের করা হয়।