জাতীয়

১৫ বছরে আওয়ামী সন্ত্রাসে নিহতদের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫, ০৯:২৯ পিএম

১৫ বছরে আওয়ামী সন্ত্রাসে নিহতদের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
ছবি: সংগৃহীত

২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সময়কালে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সন্ত্রাসী হামলা এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নির্যাতনে নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শহীদ বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে এ নির্দেশ দেন তিনি।

আবরারের বাবা মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ ও মামা মোফাজ্জল হোসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে আবরার হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন এবং অতীত ১৫ বছরে দলীয় সহিংসতায় নিহতদের ঘটনা তদন্তে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় আবরারের বাবা বলেন, “দেশের স্বার্থে কথা বলায় আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শুধু আবরার নয়, আরও অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে দলীয় সন্ত্রাসে। আমরা চাই, এসব ঘটনার বিচার হোক, ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থী এভাবে যেন প্রাণ না হারায়।”

তিনি কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণে সরকারের সহায়তা কামনা করেন, যা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বলে উল্লেখ করেন।

ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো শিক্ষার্থীবান্ধব হয়ে ওঠেনি। ল্যাব, সরঞ্জাম, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। আমরা চাই, অন্তর্বর্তী সরকার শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করবে।”

তিনি বুয়েটসহ সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র‍্যাগিং ও নিপীড়ন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান এবং বলেন, “আবরার হত্যার আগেও বুয়েটে এমন নিপীড়ন ঘটেছে। সেসব ঘটনাও তদন্তের আওতায় আসা দরকার।”

এ সময় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আবরার ফাহাদের মতো একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তার বিচার অবশ্যই হবে।”

তিনি আরও বলেন, “২০০৯ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও তাদের সংগঠনগুলোর হাতে এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ব্যবহারে যারা নিহত হয়েছেন, সেই সব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি ও তদন্ত করা হবে। ইতিমধ্যে সরকার সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।”

প্রধান উপদেষ্টা আশ্বাস দেন, এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে কোনো প্রকার গড়িমসি করা হবে না, কারণ ‘নতুন বাংলাদেশে’ আর কাউকে অন্যায়ের শিকার হতে দেওয়া হবে না।