জাতীয়

নুরাল পাগলার দরবারে হামলা ও লাশ পোড়ানোর ঘটনায় ইমামসহ গ্রেফতার ১৮


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:০২ এএম

নুরাল পাগলার দরবারে হামলা ও লাশ পোড়ানোর ঘটনায় ইমামসহ গ্রেফতার ১৮
ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার দরবারে হামলা, ভাঙচুর, সংঘর্ষ এবং কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় এক ইমামসহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম ‘লতিফ হুজুর’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি, যিনি ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার পর থেকে গোয়ালন্দ ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে আজ সকাল পর্যন্ত মোট ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। পলাতক ইমাম লতিফ হুজুরকে গ্রেফতার করা হয় মানিকগঞ্জের একটি চর এলাকা থেকে।

এ ঘটনায় সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহতের বাবা মো. আজাদ মোল্লা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে- দরবারে হামলা, মারধর, হত্যাকাণ্ড, মাজার ভাঙচুর, সম্পদ লুট, কবর থেকে লাশ উত্তোলন এবং তা আগুনে পুড়িয়ে ফেলার মতো ভয়াবহ অপরাধ।

প্রসঙ্গত, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নুরাল পাগলার দরবারে ঘটে ভয়াবহ হামলা ও সহিংসতা। স্থানীয় একটি গোষ্ঠী দরবারটিকে ‘শরিয়তবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। হামলার সময় দরবারে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং লুটপাটের পাশাপাশি ভক্তদের ওপরও চালানো হয় হামলা। এতে প্রাণ হারান এক ব্যক্তি এবং আহত হন দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ।

পরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় যখন দরবারের প্রতিষ্ঠাতা নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইতোমধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মোড়ে মোড়ে রয়েছে চেকপোস্ট, চলছে টহল। প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ বলছে, হামলার পেছনে কারা ছিল, তাদের শনাক্তের কাজ চলছে। সবার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত এখনই প্রকাশ না করলেও কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ঘটনায় বেশ কিছু উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ ঘটনার আগে থেকেই এলাকায় ধর্মীয় মতবিরোধ চলে আসছিল। নুরাল পাগলার দরবারকে ঘিরে ভক্তদের আনাগোনা, তাদের নানা আচার-অনুষ্ঠান অনেকের দৃষ্টিতে 'ধর্মের অপব্যাখ্যা' হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। সেই বিরোধের জেরে এমন ভয়াবহ সহিংসতা, এমনটাই মনে করছেন অনেকে।

অন্যদিকে, দরবার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি পরিকল্পিত হামলা এবং ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে একটি প্রগতিশীল ও আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ড ধ্বংসের অপচেষ্টা।

এদিকে, ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। উসকানিমূলক বক্তব্য ও গুজব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”