জাতীয়
বাংলাদেশের '১০ চুক্তি বাতিল' বিষয়ে কিছুই জানে না ভারত
ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ১০টি চুক্তি ও প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে—এমন দাবি করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তবে এ সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতকে কিছুই জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন।
রোববার (২০ অক্টোবর) রাতে আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক পেজে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেন, যেখানে দাবি করা হয়—আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে করা ১০টি চুক্তি ও প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে এবং বাকি কয়েকটি বিবেচনাধীন রয়েছে। পোস্টে চুক্তিগুলোর নাম, সই হওয়ার সাল এবং বাতিল, স্থগিত কিংবা পুনর্বিবেচনার অবস্থাও উল্লেখ করা হয়।
তবে সোমবার (২১ অক্টোবর) বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের মিডিয়া অফিসার বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা যোগাযোগ আমাদের জানানো হয়নি।”
চুক্তি বাতিলের তালিকায় যেসব প্রকল্প রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে আছে—ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম রেল সংযোগ, অভয়পুর-আখাউড়া রেল সম্প্রসারণ, আশুগঞ্জ-আগরতলা করিডর, ফেনী নদী পানি ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও নৌপথ উন্নয়ন চুক্তি, ফারাক্কা বাঁধ সংক্রান্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সিলেট-শিলচর সংযোগ প্রকল্প, পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন সম্প্রসারণ, মিরসরাই ও মোংলায় ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল, এবং ভারতীয় কোম্পানি জিআরএসই-এর সঙ্গে টাগ বোট সরবরাহ সংক্রান্ত চুক্তি।
এছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন প্রকল্প ‘স্থগিত’ এবং গঙ্গা পানি চুক্তি ও আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তি ‘পুনর্বিবেচনার’ তালিকায় আছে বলে দাবি করা হয়। তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলমান বলেও ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
তবে এই ঘোষণার পেছনে কী কারণ, বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি শুধু বলেন, “আজ আমি এ বিষয়ে কিছু বলব না।”
উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে গত এক যুগে কতটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং সেগুলোর প্রকৃত শর্তাবলী কী—তা এখনো পুরোপুরি জনসমক্ষে আসেনি। সরকারি ওয়েবসাইট বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না।
তবে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অন্তত ২০টি চুক্তি এবং ৬৬টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে। তবে এসব সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নিয়েছে কিনা—সেই বিষয়েও সরকারি পর্যায়ে খুব কম তথ্যই পাওয়া গেছে।