জাতীয়
ঢাকায় পৌঁছালেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পৌঁছেছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করবেন ক্রিস্টেনসেন। আগামী দুদিনের মধ্যে তিনি পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের প্রধান নুরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরিচয়পত্র পেশের প্রস্তুতি নেবেন। এরপর বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র প্রদান করবেন নতুন রাষ্ট্রদূত।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে শপথ নেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। দেশটির ব্যবস্থাপনা ও সম্পদবিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে. রিগাস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পর ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাকে স্বাগত জানায়।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। পরে ডিসেম্বরে মার্কিন সিনেট তার মনোনয়ন অনুমোদন করে। অনুমোদনের পর লিংকডইনে দেওয়া এক পোস্টে ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে তিনি গর্বিত এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞ।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিনেট শুনানিতে ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, মানবাধিকার, রোহিঙ্গা সংকট ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে পাশে থাকবে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও সম্পর্ক জোরদারে কাজ করবে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মার্কিন পররাষ্ট্র সেবার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সিনিয়র ফরেন সার্ভিস কাউন্সেলের সদস্য। তিনি এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডে বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। তার কর্মজীবনে ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটিতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তিনি ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
উল্লেখ্য, পিটার হাসের ঢাকা ত্যাগের পর দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের পদ শূন্য ছিল। গত বছরের জুলাই থেকে ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
আগামী দিনে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনৈতিক দল এবং সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।