জাতীয়

১১ বছর পর নতুন সংস্করণে যাচ্ছে সরকারি ৩৬ হাজার ওয়েবসাইট


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

১১ বছর পর নতুন সংস্করণে যাচ্ছে সরকারি ৩৬ হাজার ওয়েবসাইট
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর বড় ধরনের প্রযুক্তিগত রূপান্তরের পথে যাচ্ছে জাতীয় তথ্য বাতায়নের আওতাভুক্ত সরকারি দপ্তরগুলোর ওয়েবসাইট। মন্ত্রণালয় থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত থাকা প্রায় ৩৬ হাজার ৪শ সরকারি ওয়েবসাইটকে নতুন সফটওয়্যার ভার্সনে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০১৪ সালে চালুর পর এসব ওয়েবসাইটের মূল সিস্টেম আর আপডেট না হওয়ায় তথ্যের পুরোনোত্ব, নিরাপত্তা ঝুঁকি, সার্ভার ডাউন হওয়া এবং একসঙ্গে বেশি ব্যবহারকারী প্রবেশে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর আগের কর্মকর্তাদের নাম ও তথ্যই রয়ে গেছে, যা নাগরিকদের বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় জাতীয় তথ্য বাতায়নের এই আধুনিকায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) জানিয়েছে, ধাপে ধাপে সফটওয়্যার আপগ্রেডেশনের কাজ চলছে এবং আগামী মাসের মধ্যেই পুরো কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কাজে ব্যয় হচ্ছে প্রায় তিন কোটি টাকা।

কী পরিবর্তন আসছে নতুন ভার্সনে:

এটুআইয়ের পরামর্শক মো. মনিরুজ্জামান জানান, এতদিন তথ্য বাতায়নের ওয়েবসাইটগুলো ছিল মনোলিথিক ফ্রেমওয়ার্কে। ফলে কোনো একটি অংশে পরিবর্তন আনতে গেলে পুরো সিস্টেমে প্রভাব পড়ত। নতুন ভার্সনে মাইক্রো সার্ভিস কাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে নির্দিষ্ট অংশে সমস্যা হলেও পুরো ওয়েবসাইট অচল হয়ে পড়বে না।

নতুন সিস্টেমে ডাটাবেজও ডিস্ট্রিবিউটেড থাকবে। এতে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী প্রবেশ করলেও ওয়েবসাইট ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আগের তুলনায় অনেক শক্তিশালী করা হয়েছে।

এটুআইয়ের জুনিয়র কনসালট্যান্ট মাসরুর মোহাম্মদ শান্ত জানান, নতুন ভার্সনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—ডায়নামিক কনটেন্ট ব্যবস্থাপনা। এখন সহজেই তথ্য হালনাগাদ ও পরিবর্তন করা যাবে।

আপগ্রেডের কারণে সাময়িক ভোগান্তি:

সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজ চলায় মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। গত ১২ জানুয়ারি বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।

এটুআই কর্মকর্তারা জানান, ডাটা মাইগ্রেশন ও নতুন সার্ভারে স্থানান্তরের কারণেই এসব সমস্যা হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কয়েক মিনিটের মধ্যে সাইটগুলো আবার চালু করা হয়েছে।

প্রযুক্তি নয়, কনটেন্টই বড় চ্যালেঞ্জ:

যদিও ওয়েবসাইটগুলো আধুনিক প্রযুক্তিতে আনা হচ্ছে, তবুও তথ্য হালনাগাদ না থাকার অভিযোগ পুরোনোই রয়ে গেছে। ব্যবহারকারীরা বলছেন, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক—দপ্তরগুলো নিয়মিত তথ্য না দিলে জনগণের প্রকৃত উপকার হবে না।

এ বিষয়ে এটুআই জানিয়েছে, সব ওয়েবসাইটেই নির্ধারিত সাইট অ্যাডমিন রয়েছে। কারিগরি দিক তারা দেখলেও ওয়েবসাইটে কী তথ্য থাকবে এবং কতটা নিয়মিত আপডেট হবে—তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্ব।

প্রসঙ্গত, জাতীয় তথ্য বাতায়ন একটি সমন্বিত সরকারি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম, যেখানে দেশের সব সরকারি দপ্তর তাদের তথ্য ও সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে এই পোর্টাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। নতুন সংস্করণে যাওয়ার মাধ্যমে সেই ভূমিকা আরও কার্যকর হবে—এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।

সূত্র: জাগোনিউজ