জাতীয়

বিটিসিএলের তিন কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২১ পিএম

বিটিসিএলের তিন কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ডোমেইন বন্ধ করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর তিন কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আদালত মামলাটি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর হাকিম মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি (USET)-এর উপদেষ্টা মুহা. তাজুল ইসলাম। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তদন্তের আদেশ দেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নিম্ন আদালতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানান বাদী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয় এবং আজ আদেশের বিষয়টি তিনি জানতে পারেন।

মামলার আসামিরা হলেন— মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ব্রডব্যান্ড-২) জয়ীতা সেন রিম্পী, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডোমেইন) মোস্তফা আল মাহমুদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ডোমেইন) আবীর কল্যাণ আবেদীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-২) মো. শাহ আলম সিরাজ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান মাসুদ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইউসেট কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ওয়েবসাইট— www.uset.ac.bd
 ও www.uset.edu.bd
 পরিচালনা করে আসছে। ডোমেইন সংক্রান্ত নিরাপত্তার স্বার্থে এডমিন প্যানেলের পাসওয়ার্ড যেন কাউকে প্রদান না করা হয়—এ মর্মে ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল বিটিসিএলকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তীতে ১৭ নভেম্বর ডোমেইন বিষয়ে আপত্তির কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি পাঠানো হয় এবং অভিযোগ শুনানি বাবদ ২৩ হাজার টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়।

বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৩ হাজার টাকার পে-অর্ডারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে গেলে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ না করে ফেরত দেন। তারা অজুহাত দেন, ডিমান্ড নোট অনুযায়ী ২৭ নভেম্বর টাকা জমা দেওয়ার সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিদের আচরণে নিরপেক্ষতার ঘাটতি এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা না দেখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডোমেইন বন্ধ না করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাজুল ইসলাম বিটিসিএলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জয়ীতা সেন রিম্পীর কার্যালয়ে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীকে গালিগালাজ করেন, কটু কথা বলেন এবং ভবিষ্যতে বিটিসিএলের বারান্দায় না আসার হুমকি দেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান জয়ীতা সেন রিম্পী এবং আবেদন গ্রহণ শাখার কর্মচারীকেও আবেদন গ্রহণ না করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে এসব বিষয়ে উল্লেখ করে গত ১৮ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। এর পরও গত ১১ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ডোমেইন বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত শুরু করলে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাদী।