জাতীয়

জরাজীর্ণ ভোটকেন্দ্র সংস্কারে ৬ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

জরাজীর্ণ ভোটকেন্দ্র সংস্কারে ৬ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারা দেশে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র সংস্কারে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত নির্বাচন উপযোগী করতে ৬ কোটি ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে সংস্কারকাজের স্বচ্ছতা ও সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে উপজেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে দুই স্তরের তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত জরাজীর্ণ ভবনের তালিকা প্রস্তুত করে। সেই তালিকার ভিত্তিতেই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংস্কারকাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরকে (ইইডি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারা দেশে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত মোট ৯৪৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অবকাঠামোগতভাবে জরাজীর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর সীমানা প্রাচীর নেই, দরজা-জানালা ভাঙাচোরা, কোথাও স্যানিটেশন ও বিদ্যুৎব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে। ভোটার ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এসব কেন্দ্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

সংস্কারকাজ তদারকির জন্য উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সভাপতি থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। সদস্য হিসেবে থাকবেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সিটি করপোরেশন এলাকায় যেখানে ইউএনও নেই, সেখানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সভাপতি করে তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রভিত্তিক পৃথক কমিটি থাকবে, যারা সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অবস্থা মূল্যায়ন ও সংস্কারকাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর জানিয়েছে, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত ও পুনর্বাসন’ খাত থেকে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থ শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা মেরামত, ছাদের লিকেজ বন্ধ, ভবনের সংস্কার, বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিতকরণ, শৌচাগার ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ব্যয় করা হবে।

ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারের জন্য ডিডিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছর ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগও নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

উল্লেখ্য, গত ৬ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত অবস্থা জানতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠায়। সীমানা প্রাচীরহীন, দরজা-জানালা জরাজীর্ণ ও ছোটখাটো মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠানের তথ্য চাওয়া হয়েছিল ওই চিঠিতে।