জাতীয়
বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার সরিয়ে নিচ্ছে ভারত
নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য দেশটিকে ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ভারত। এর ফলে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটের চারটি সহকারী হাইকমিশনে কর্মরত কূটনীতিকদের পরিবার-সদস্যদের ভারতে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। যদিও বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া এই তথ্য জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মূল্যায়নের ভিত্তিতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একাধিকবার উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) সম্প্রচার বন্ধ এবং আইপিএলের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশে উদ্বেগ প্রকাশের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভারত সরকার তাদের মিশন ও পোস্টে কর্মরত কর্মকর্তাদের পরিবার-পরিজনদের আপাতত ভারতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
তবে ভারতীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশে ভারতের কূটনৈতিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে না। মিশনগুলোর স্বাভাবিক কাজকর্ম আগের মতোই চলবে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, দিল্লিতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ভারত একের পর এক উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতে বাংলাদেশ মিশনের সামনে বিক্ষোভ ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশেও ভারতের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের সামনে একাধিকবার বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।