জাতীয়

ঋণে ডুবে থাকার থেকে লোডশেডিংয়ের কষ্টে থাকা ভালো: বিদ্যুৎমন্ত্রী 


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম

ঋণে ডুবে থাকার থেকে লোডশেডিংয়ের কষ্টে থাকা ভালো: বিদ্যুৎমন্ত্রী 
ছবিঃ সংগৃহীত

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, আমরা লোডশেডিং রেখে গিয়েছিলাম সত্য, কিন্তু জাতির কাঁধে বোঝা রেখে যাইনি। এখন বাতি জ্বলে ঠিকই, কিন্তু জাতির কাঁধে বোঝা অনেক। আমি মনে করি ঋণে ডুবে থাকার থেকে লোডশেডিংয়ে কষ্টে থাকা ভালো।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে বিদ্যুৎ খাতের ৭৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া ও লোকসান নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে নিজ দপ্তরে এক বৈঠক করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। সেখানে বলা হয়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছে বিভিন্ন কোম্পানির পাওনা এখন ৪৬ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৩০ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন সরকারি কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসান। এই বকেয়া ও লোকসানের টাকা দেওয়া না হলে বিদ্যুতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছে, সেখানে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে, সেখানে বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হচ্ছে। পুরোই হযবরল অবস্থা। 

তিনি আরও বলেন, আমার সময় বিদ্যুতে সিস্টেমলস ছিল ৬ শতাংশ। ১৯ বছর পরে এসে দেখছি ১০ শতাংশ হয়ে গেছে। ১ শতাংশ সমান ৫০ লাখ টাকা। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা। প্রাথমিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য। এটা করা গেলে লোকসান কমে আসে। না হলে দায় আরও বাড়বে, আইএমএফ এসে চাপ দেবে। আমরা বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে ভাবছি। যাতে উভয়পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।

চলমান গ্যাস–সংকট চাইলেই রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যবস্থাপনার সমস্যার জন্য গ্যাসের ভোগান্তি হচ্ছে না। এটি হচ্ছে গ্যাসের অভাবে। গ্যাস নেই, আওয়ামী লীগ সরকার কূপ খনন করেনি, উৎপাদন বাড়ায়নি, তাই এখন এ অবস্থা। এখন চাইলেই তো উৎপাদন করা যাবে না; সময় দিতে হবে।