জাতীয়

চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যু: স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলার তদন্তে সিআইডি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যু: স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলার তদন্তে সিআইডি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ধানমন্ডিতে চিকিৎসক নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)কে দিয়েছে আদালত। মামলায় তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা মামলার আবেদন গ্রহণ করে অভিযোগটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

মামলার আসামিরা হলেন- ধীপ্রার স্বামী ডা. রহমত রশীদ, শ্বশুর বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা এবং তার জামাতা সিমু নাসের। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যু, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের মাধ্যমে আলামত গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে ধীপ্রার আত্মীয় মো. মশিউর রহমান শাহ আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে বিকেলে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। বিচারক সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফরহাদ হোসেন নিয়ন শুনানিতে অংশ নেন।

মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রেমের সম্পর্কের পর সহপাঠী ডা. রহমত রশীদকে বিয়ে করেন ধীপ্রা। তাদের দুই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, নির্যাতনের কারণে ধীপ্রা তীব্র বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। সন্তান জন্মের পর তিনি পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশন, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও আসামিরা তার যথাযথ চিকিৎসা ও পরিচর্যায় অবহেলা করেন এবং পেশাগত পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও বাধা দেন।

মামলায় আরও বলা হয়, গত ২ জুন থেকে টানা তিন দিন তাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়, খাবার দেওয়া হয়নি এবং সন্তানকেও দেখতে দেওয়া হয়নি। ৪ জুন তার মা বাসায় গিয়ে মেয়েকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে দরজা খুলে দিলে ধীপ্রা মাকে জড়িয়ে ধরে খাবার চাওয়ার পরপরই অসুস্থ হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।

অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়নি; বিলম্বের পর বারডেম হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রভাব খাটিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে দ্রুত দাফন করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং নিহতের পরিবার অসহায় হওয়ায় আইনি পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব হয়েছে।